আলেমদের উদ্দেশ্যে মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামীর মূল্যবান নসীহত

আল হাইয়াতুল উলয়ার কিছু পরীক্ষক সৌজন্য সাক্ষাতের জন‍্যে আসলে তাদের মূল্যবান নসীহত করেছেন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার গ্রান্ড মুফতী, হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান পরিচালক মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী। নসীহত অনুলিখন করেছেন- মুফতি হোসাইন আহমদ জাবের। চেরাগদানী ডডকমের পাঠকদের জন্য নসীহত হুবহু তুলে ধরা হলো।


বর্তমান পরীক্ষার যামানা, মুসলমানদের উপর পরীক্ষা চলছে। বিশেষ করে আলেম-উলামাদের উপর। সামনে কী হয় আল্লাহই ভালো জানেন। বর্তমানে বড়দের সুহবত অর্জন করেছেন এমন ব্যক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। হজরত থানবী রহ. হজরত মাদানি রহ. ও পটিয়ার মুফতি সাহেব রহ. ইত্যাদি’র সুহবত পাইছে এমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

আগে কোনো একজন বড় আলেম ইন্তেকাল করলে আরো দশজনকে দেখা যেতো, যাদেরকে দেখে মানুষ আমল করত। হেদায়েতের রাস্তা খুঁজে পেত। যাদের ছায়াকে মানুষ রহমত মনে করে গ্রহণ করত। কিন্তু আজ তেমন কেউ নেই! হাদিসের ভাষায় এই সময়কে কাহ্তুর রিজাল (ব্যক্তিত্বের দূরভিক্ষ) বলা হয়েছে। হাদিস পড়ার সময় আমার এ কথা বুঝে আসেনি। এখন বুঝে আসছে। আফসোসের বিষয় হচ্ছে, আমার দৃষ্টিতে এমন একজন লোকও নেই, যার কাছে গিয়ে আমার কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। বর্তমানে ঈমান টিকিয়ে রাখা অনেক কষ্টকর। তাই আপনারা আল্লাহর নবীর প্রত্যেকটা সুন্নাতকে আঁকড়ে দরুন। নফল- মুস্তাহাবের গুরুত্ব দিন। আমরা আমাদের দীনি কাজ ভালোভাবে আদায় করলে কেউ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। কারণ আল্লাহর নবী আমাদের জন‍্য দুটো জিনিস রেখে গিয়েছেন। কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসুলিল্লাহ। এগুলোকে ভালোভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে আমদের।

তিনি বলেন, আমাদের ইলম নেই আমলও নেই। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে “আলেমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলমকে তুলে নেওয়া হবে” তার প্রমাণ এখন দেখা যাচ্ছে।

হ্যাঁ, ইলম আছে কিতাবের পাতায়। কিতাব থেকে অর্জন করার লোক নেই।

হজুর বলেন- আল্লাহ বিনয়ীদের পছন্দ করেন অহংকারীদের নয়। এই গুণ আমাদের অর্জন করতে হবে। হুজুর বোয়ালী সাহেব রহ. এর ঘটনা বর্নণা করে বলেন- একবার এক সওদাগর বোয়ালী সাহেব হুজুরকে বল্লেন- হুজুর, আপনার দুইটা দোষ আছে! বোয়ালী সাহেব বলেছেন- ও বেটা, ও বেটা, আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত হাজার হাজার দোষ। তুমি শুধু দুইটা জানো! দয়া করে তুমি হাজী সাহেব হুজুরের কাছে যাও আমার এই জিম্মাদারি নিয়ে নিতে বল।

হুজুর বলেন- আল্লাহ বান্দার জন্য সব চেয়ে বেশি দয়াময় আল্লাহর চেয়ে বেশি দয়াময় কেউ নেয়” আল্লাহ দেওয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত, আমরা নিতে প্রস্তুত না, নিতে জানছি না। আল্লাহই তো দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কি দেওয়ার আছে কেউ? আল্লাহর কাছেই চান অবশ্যই পাবেন।