একদিনে ঘুরে আসুন চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মহামায়া লেক

ডেস্ক: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার মাঝের পথটুকুতে সবচেয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক নৈসর্গে ভরপুর দুটি উপজেলা হচ্ছে মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড। সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের মূল আকর্ষণ এক হাজার ১৫২ ফুট উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গে অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই তীর্থস্থানটি চট্টগ্রাম জেলার সর্বোচ্চ স্থান। আর মীরসরাইয়ের পূর্বের ছোট-বড় পাহাড়গুলো সান্ত্রীর মত দাঁড়িয়ে থেকে ঘিরে রেখেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়া লেক। এই মনোরম স্থান দু’টিতে ঢাকা থেকে পুরো একদিনে ঘুরে আসা যায়।

চন্দ্রনাথ মন্দিরের আগে আধমাইল দূরত্বে আছে বিরুপাক্ষ মন্দির এবং এই দুই জায়গা থেকে আশপাশের পাহাড়সহ দূরের বঙ্গোপসাগর চোখে পড়ে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশের সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক এবং সুপ্তধারা ও সহস্রধারা পাহাড়প্রেমীদের অপার্থিব উন্মাদনায় যোগ করে জীবনের স্পন্দন।

মহামায়া লেক: পাহাড়, লেক ও ঝরনার দারুণ প্যাকেজ

মহামায়া লেকটি মূলত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির লক্ষ্যে ১৯৯৯ সাল থেকে চালু হওয়া সরকারের একটি সেচ প্রকল্প। রাবার ড্যাম, ঝর্ণা ও পাহাড়ি গুহার রোমাঞ্চ ছাড়াও মহামায়া লেক কায়াকিং-এর জন্য উপযুক্ত জায়গা।

ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড ডে ট্যুর প্ল্যান

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে আগে পড়ে মীরসরাই তারপর সীতাকুণ্ড। তাই প্রথমে চন্দ্রনাথ পাহাড় ঘুরে ফেরার পথে মহামায়া লেক ঘুরে আসতে হবে। তাছাড়া চন্দ্রনাথ পাহাড়ে খুব ভোরেই যাওয়া উত্তম। কারণ শীত-গ্রীষ্ম দুই সময়েই সকাল আটটার পর রোদের উত্তাপে পাহাড় ট্রেকিং-এর ক্লান্তি চরমে উঠে যায়।

পাহাড় থেকে নেমে দুপুরের আগে আগেই মহামায়া লেকে চলে যাওয়া যেতে পারে। তারপর সন্ধ্যার পর সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া। এই হলো প্ল্যান।

এই প্ল্যান অনুসারে ঢাকা থেকে রাত ১২টার বাসে রওনা হতে হবে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশে। ঢাকার গাবতলী, কলাবাগান ও সায়েদাবাদ থেকে চট্টগ্রামগামী যে কোনো বাসে উঠলে ভোর পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে সীতাকুণ্ড বাজারে নামিয়ে দেবে। এছাড়া কমলাপুর থেকে সাড়ে ১০টার মেইল ট্রেনে সীতাকুণ্ডে যাওয়া। সেখানে সকালের নাস্তা সেরে অটোরিক্সায় চলে যেতে হবে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে। পাহাড়ে ওঠার আগে সাথে শুকনো খাবার ও পানি রাখা ভালো।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে অর্থাৎ মোট তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগবে পুরো পাহাড় ঘুরে আসতে। চন্দ্রনাথ পাহাড় আয়েশ মত ঘুরে এরপর ঠাকুরদীঘি বাজারে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়ে রওনা করতে হবে মহামায়ার দিকে।

সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ঠাকুরদীঘি বাজারে সিএনজি অথবা বাসে করে আসা যায়। ঠাকুরদীঘি থেকে অটোরিক্সা করে মহামায়া লেক। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে নিলে সরাসরি মহামায়া পার্কের গেটে নামিয়ে দেবে।

শীতকালে যেহেতু ৫টাতেই দিন শেষ হয়ে যায়, তাই দুপুর ৩টার মধ্যেই লেকে চলে আসা উচিত। গরমের সময়ে সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা নাগাদ লেকে চলে এলেই হবে। গোধূলির লালিমা ফোটার আগে আগেই কায়াক নিয়ে চলে আসতে হবে ডাঙ্গায়। অতঃপর মীরসরাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার বাসে উঠে বাড়ি ফেরা।

সর্বমোট ভ্রমণ খরচ

ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড বাস ভাড়া ননএসি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং এসি ১১৫০ থেকে ১৩০০ টাকা। কমলাপুর থেকে মেইল ট্রেনে ভাড়া পড়বে ১২০ টাকা।

সীতাকুণ্ড বাজার থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত অটোরিকশা ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা। সকালের নাস্তা ৫০ টাকার মধ্যে সেরে নেয়া যাবে। পাহাড়ে ওঠার জন্য ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে শুকনো খাবার ও পানি নিয়ে নেয়া যায়।

দুপুরের খাবার খরচ পড়তে পারে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে মহামায়া ইকোপার্ক সিএনজি রিজার্ভ নিলে ৬০ থেকে ৮০ টাকা নিতে পারে। এছাড়া সীতাকুণ্ড বাজার থেকে বাসে ১০ টাকায় ঠাকুরদিঘী বাজার নেমে যাওয়া যাবে। সেখান থেকে মহামায়া ইকোপার্ক অটোরিক্সায় ২০ টাকা। ইকোপার্কে ১০ টাকা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়।

কায়াকিং-এ প্রতি ঘণ্টায় নেয় ৩০০ টাকা। স্টুডেন্ট আইডি কার্ড দেখিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা ২০০ টাকায় কায়াকিং করতে পারে। সব মিলিয়ে ১৭০০ থেকে ২২০০ টাকা লাগতে পারে পুরো ডে ট্যুরে।