কীভাবে প্যালিনন্ড্রোম লিখবেন (৩য় পর্ব)

শ্রী লোকনাথ মণ্ডল।।

প্রথম পর্বে আমরা দেখেছিলাম চমক হাসানের প্যালিনড্রোম তৈরি করার শুরু কথা। সেখানে আমরা প্যালিনড্রোম তৈরির সাধারণ বিষয় সমন্ধে ধারণা পেয়েছি। যা প্যালিনড্রোম লেখা শুরু করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ শুরুটায় যদি আপনার স্বচ্ছ ধারণা না থাকে তবে এ পথে আগানো সহজ হবে না। তাই শুরুটা ভালো ভাবে আয়ত্ব করতে হবে। যদি শুরুটা আপনার আয়ত্ত্বাধীন থাকে তবে এখান থেকে বাকি পথের যাত্রা শুরু করা যাক।

আমরা এখন শব্দ যুগল তৈরি করতে পারি। সেটা ছিল আমাদের মূল হাতিয়ার। আশা করি মধ্যমণির কথা আমাদের মনে আছে। এখন আমরা এখানে মধ্যমণির দিকে একটু নজর দেবো। আমরা দেখবো মধ্যমণি প্রতিস্থাপন করে নতুন নতুন শব্দ যুগল তৈরি করা যায়।

মধ্যমণি প্রতিস্থাপন নিয়ে লেখক কি বলেছেন সেটা দেখা যাক,

মধ্যমণি প্রতিস্থাপন: “আমরা দেখেছি প্যালিনড্রোম শব্দযুগল খুব জরুরি, কারণ তাদেরকে ইট হিসেবে ব্যবহার করে প্যালিনড্রোমের ইমারত গড়া যায়। মধ্যমণি প্রতিস্থাপনের নিয়ম জানলে একটা শব্দযুগল থেকে অনেকগুলো বানিয়ে নেয়া যায়।

‘বিরহ রবি’। এই শব্দযুগলে সবার মাঝের অক্ষর অর্থাৎ মধ্যমণি হলো ‘হ’। খেয়াল করি- এর দুইপাশে (বির রবি) কিন্তু প্রতিসম। ফলে এই ‘হ’ কে অন্য যেকোনো অক্ষর (কিংবা প্যালিনড্রোম) দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে পুরোটা প্যালিনড্রোম থাকবে। যেমন- বিরস রবি, বিরক্ত রবি, বিরত রবি ইত্যাদি।

মধ্যমণি প্রতিস্থাপনের আরো উদাহরণ দিই। ‘বিকল কবি’ জানা থাকলে সেখান থেকে থেকে ‘বিকট কবি’, ‘বিকল্প কবি’, ‘বিকর্ণ কবি’ ইত্যাদি ভাবা যেতে পারে। ‘বিরহ রবি’ এর কথা আবার ভাবি। মধ্যমণি ‘হ’ কে অন্য একটা প্যালিনড্রোম শব্দ, শব্দাংশ, বা অক্ষরমালা দিয়েও প্রতিস্থাপন করা যায়, তাহলেও পুরোটা প্যালিনড্রোম থাকবে। যেমন ‘হ স হ’ বসালে পাবো ‘বিরহ সহ রবি’। একটু পরে আমরা দেখব প্যালিনড্রোম বিস্তারের একটা দারুণ নিয়ম যাকে আমি নাম দিয়েছি ‘মধ্যমণি সূত্র’। সেটার মূলনীতি আসলে এই মধ্যমণি প্রতিস্থাপন। ‘তার বারতা’ এর মধ্যমণি ‘বা’ কে ‘বা ণী বা’ এই প্যালিনড্রোম শব্দাংশ দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে পাবো ‘তার বাণী, বারতা’। প্যালিনড্রোম শব্দযুগল বিস্তারের মূলচিন্তা আসলে এটাই”

মধ্যমণি প্রতিস্থাপণের মূল লক্ষ্য হলো অসম যুগলের মাঝের আক্ষরটাকে অন্য কোন অক্ষর দিয়ে প্রতিস্থাপন করে নতুন অর্থবোধক কোন শব্দ যুগল পাওয়া যায় কিনা দেখা।

এবার আমরা দেখবো সুষম যুগল থেকে কি করে অসম যুগল ও অসম থেকে কি ভবে সুষম যুগল প্যালিনড্রোম তৈরি করা যায়।

অসম থেকে সুষম যুগলে রূপান্তর: যদি শব্দযুগল সুষম না হয়, তাহলে প্রয়োজনে মধ্যমণিকে দুইবার ব্যবহার করে সুষম বানিয়ে নেয়া যায়। যেমন- ‘কথা ক’ একটা অসম যুগল- এখানে ‘থা’ হলো মধ্যমণি। এটা থেকে ‘থা’ কে দুইবার ব্যবহার করলে পাবো ‘কথা থাক’। সেটাও প্যালিনড্রোম হবে।

সুষম থেকে অসম যুগলে রূপান্তর
একটা সুষম প্যালিনড্রোম যুগলে মাঝের দুটো অক্ষর সবসময় একই হয়। নইলে প্যালিনড্রোম হয় না। যেমন ‘কথা থাক’। এখানে মাঝে দুটো ‘থা’। এখান থেকে দুইভাবে অসম যুগলে রূপান্তর করা যায়। মাঝে যে অক্ষর দুইবার আছে, তার একটা বাদ দিয়ে। যেমন ‘কথা থাক’ থেকে পরের ‘থা’ বাদ দিয়ে পাবো ‘কথা ক’। অথবা, মাঝে নতুন একটা অক্ষর যুক্ত করে। যেমন ‘কথা থাক’ থেকে ‘কথাটা থাক’।

এভাবে আপনি সুষম বা অসম যুগলকে প্রয়োজন মতো পরিবর্তন করে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারেন।

আগের পর্বগুলো- কীভাবে প্যালিনন্ড্রোম লিখবেন (১ম পর্ব)
কীভাবে প্যালিনন্ড্রোম লিখবেন (২য় পর্ব)