কীভাবে প্যালিনন্ড্রোম লিখবেন (৪র্থ পর্ব)

শ্রী লোকনাথ মণ্ডল।।

এবার অগ্রসর যাক প্যালিনড্রোম তৈরির দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ প্রথম ধাপে শেখা শব্দ যুগলকে কিভাবে বিস্তার করে প্যালিনড্রোম বাক্য তৈরি করবেন। শব্দ যুগল বিস্তার আমরা দুই ভাবে করতে পারি। ১. অন্তবিস্তার। ২. বর্হিবিস্তার।

অন্তবিস্তার: এটি হলো শব্দযুগলকে ভেতর থেকে বাড়ানো। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। একটি যেকোন একটি শব্দ যুগল নেই। যেমন: ‘কলেজ লেক’ এটাকে বিস্তার করে লিখলাম ‘কলেজ আজ লেক’ । এটাই হলো অন্তবিস্তার( এখানে এটি কিভাবে বিস্তার করেছি তা নিয়ে আপাতত চিন্তা করতে বারণ করছি, শুধু অন্তবিস্তার কি তা বোঝানোর জন্য এটা দেখানো হয়েছে।)। আর প্যালিনড্রো তৈরির জন্য এটা বেশি ব্যবহৃত ও বেশ উপকারী একটা পদ্ধতি।

অন্তবিস্তার কয়েক ভাকে করা যেতে পারে যেমন;
সুষম যুগলের বিস্তার
সুষম যুগলের দু’টো শব্দেই সমান সংখ্যক অক্ষর (নীলিমা মালিনী)। এখন মাঝে কিছু বসিয়ে যদি প্যালিনড্রোম বানাতে হয়, তাহলে মাঝেরটাকেও প্যালিনড্রোম হওয়া চাই। যেমন ‘নীলিমা মালিনী’ থেকে বিস্তার করতে পারি ‘নীলিমা মম মালিনী’। মাঝে যে ‘মম’ বসিয়েছি এটা নিজেই প্যালিনড্রোম। এমন না হলে পুরোটা প্যালিনড্রোম হতো না। আরো কিছু উদাহরণ হতে পারে এমনঃ

– ‘মিতু তুমি’ থেকে ‘মিতু, কোথায় থাকো তুমি’। এখানে ‘কোথায় থাকো’ নিজেই প্যালিনড্রোম।
-‘কথা থাক’ থেকে ‘কথা না-শোনা থাক’ । এখানে ‘না-শোনা’ নিজেই প্যালিনড্রোম।

আগে আমরা দেখেছি কী করে সুষম থেকে অসম যুগল তৈরি করা যায়। সেটা করে নিলে অনেকক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যায়। তখন অসম যুগলের বিস্তারের নিয়মগুলো প্রয়োগ করে দ্রুত বিস্তার করা যায়।

অসম যুগলের বিস্তার
অসম যুগলের ক্ষেত্র আমরা দেখেছিলাম, অসম যুগল দুই ধরনের হতে পারে,
ক. ডানভারী,
খ. বামভারী।
দুটো ক্ষেত্র আলাদা করে দেখা যাক।

ডানভারী যুগলের বিস্তার: একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক। ‘সে হাসে’ থেকে বাড়াতে পারি ‘সে হায় হাসে’। কৌশলটা কী? ভালো করে লক্ষ্য করি: ‘সে হাসে’-এখানে পুরো শব্দযুগলের মাঝখানে আছে ‘হা’। সে হলো এই প্যালিনড্রোমের মধ্যমণি। তার দুইপাশে অবশ্যই প্রতিসম শব্দাংশ থাকবে, নইলে প্যালিনড্রোমই হবে না। এই মধ্যমণি ‘হা’ দিয়ে শুরু করে দুই অক্ষরের যেকোনো শব্দ মাঝে বসালে সেটা প্যালিনড্রোম থাকবে। যেমন- ‘সে হাসি হাসে’, ‘সে হাহা হাসে’, ‘সে হারে, হাসে’, ‘সে হানে, হাসে’ ইত্যাদি।

মনযোগ দিয়ে দেখলে দেখা যাবে – আমরা ‘হা’ কে বদলে দিচ্ছি ‘হা সি হা’, ‘হা হা হা’, ‘হা রে হা’ এগুলো দিয়ে, যার প্রতিটাই প্যালিনড্রোম। একারণে পুরোটা শেষ পর্যন্ত প্যালিনড্রোম থেকে যায়। আরও কিছু উদাহরণ দেয়া যাক।

‘তার বারতা’। এখানে, সবার মাঝে যেই অক্ষর সেই মধ্যমণি হলো ‘বা’। তাহলে ‘বা’ দিয়ে শুরু যেকোনো দুই অক্ষরের শব্দ মাঝে বসালে প্যালিনড্রোম থাকবে। ‘তার বাণী, বারতা’, ‘তার বাকি বারতা’, ‘তার বাসী বারতা’, ‘তার-বাদে বারতা’ ইত্যাদি।

বামভারী যুগলের বিস্তার: এটাও একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক। ‘বিরহে রবি’ থেকে বাড়াতে পারি ‘বিরহে কহে রবি’। কৌশলটা কী? ভালো করে লক্ষ্য করি- ‘বিরহে রবি’- এখানে সবার মাঝের অক্ষর অর্থাৎ মধ্যমণি হলো ‘হে’। আগের ‘ডানভারী যুগলের’ ক্ষেত্রটা থেকে এবারে পার্থক্য হলো মধ্যমণিটা আগে ছিল শব্দের শুরুতে, এখন শেষে। ‘তার বারতা’ এর মধ্যমণি ‘বা’ ছিল ‘বারতা’ এর শুরুতে- এখন ‘বিরহে রবি’ তে ‘হে’ আছে ‘বিরহে’ শব্দটার শেষে।

এবার নিয়ম হলো, নতুন যে শব্দটা মাঝে ঢুকবে তার ‘শেষে’ ‘হে’ থাকতে হবে। যেমন ‘কহে, ‘বহে’, ‘রহে’, ‘নহে’ ইত্যাদি। যেমন ‘বিরহে রবি’ থেকে ‘বিরহে রহে রবি’, ‘বিরহে নহে রবি’, ‘বিরহে কহে রবি’ সবগুলোই প্যালিনড্রোম। আবার বলি, মাঝের নতুন শব্দে ‘হে’ টাকে শেষে থাকতে হবে।

এ দুটো নিয়মকে একসাথে করলে আমরা যেটা পাবো , সেটা হলো বাংলায় প্যালিনড্রোম লেখার সব থেকে শক্তিশালী নিয়ম।

আগের পর্বগুলো- কীভাবে প্যালিনন্ড্রোম লিখবেন (প্রথম পর্ব)
কীভাবে প্যালিনন্ড্রোম লিখবেন (২য় পর্ব)
কীভাবে প্যালিনন্ড্রোম লিখবেন (৩য় পর্ব)