খাঁচায় পশু-পাখি পালন; ইসলাম যা বলে

ব্যস্ত আমাদের জীবন। বাইরে যাওয়ার মতো তেমন জায়গা নেই। ছুটির দিন বা অবসরে ঘরেই কাটায়। একটু বেশি ছুটি পেলে গ্রামে বা দূরে কোথায়ও ঘুরতে যায়। এটা সব সময় হয়ে উঠে না। ডিপ্রেশন কাটাতে অনেকেই পশু-পাখি পালে। ঘরে আবদ্ধ জীবনে পশু-পাখি পেলে শিশুরা একটু বেশি খুশি হয়। পশু-পাখি নিয়ে কাটে তাদের সময়। অনেক মা-বাবা মোবাইল বা টিভি আসক্তি থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে পশু-পাখি উপহার দেন। বাসার বারান্দায় বা এককোনে খাঁচায় রাখা পশু-পাখি ঘরে অন্যরকম সৌন্দর্য বাড়ায়।

খাঁচায় পশু-পাখি পালা বিষয়ে ইসলামের বিধান কি আমরা জানি? কোন কাজ করার আগে, সে বিষয়ে ইসলামের বিধান জেনে নেয়া উচিত। তাহলে আমরা অনেক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারব। ইসলামের কথা অনুযায়ী পাললে আমাদের সখ বা যে উপকারের জন্য পালছি সেটা তো হবেই পাশাপাশি আমাদের সওয়াব হবে। তাই পশু-পাখি পালার আগে ইসলামের বিধান জেনে নিন।

পশু-পাখি খাঁচায় বন্দি রেখে প্রতিপালন করা জায়েজ, যদি তাকে তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য-পানি দেওয়া হয় এবং যথাযথভাবে যত্ন নেওয়া হয়। ফিকহের কিতাবগুলো রয়েছে, খাবার পানির সঠিক ব্যবস্থা করে ও কোনো ধরনের কষ্ট না দেওয়ার শর্তে খাঁচায় বন্দি করে পাখি পোষা জায়েজ। (আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : ৪/৪৫৪, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/১৭৩)

হাদিসে এসেছে, কিছু সাহাবি খাঁচায় পাখি রেখে লালন-পালন করেছেন বলে। হিশাম ইবনে উরওয়া রা. বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রা. মক্কায় ছিলেন। তখন সাহাবিরা খাঁচায় পাখি রাখতেন।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৩৮৩)

আনাস রা. বলেন, ‘আমার এক ভাই ছিল; তাকে আবু উমায়ের বলে ডাকা হতো। সে তখন মায়ের দুধ খেত না। যখনই সে নবী সা.-এর কাছে আসত, তিনি বলতেন, হে আবু উমায়ের, কী করছে তোমার নুগায়ের? (একটি পাখির নাম।) সে নুগায়ের নিয়ে খেলত। তিনি আমাদের ঘরে নামাজের জন্য দাঁড়াতেন এবং আমরাও তাঁর পেছনে দাঁড়াতাম। আর তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করতেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১২৯; মুসলিম, হাদিস : ২১৫০)

যদি তাকে খাদ্য-পানি থেকে বঞ্চিত করা হয় বা পর্যাপ্ত যত্ন না নেওয়া হয় তাহলে খাঁচায় বন্দি রেখে পশু-পাখি পালন করা হারাম।

আবদুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন এক নারীকে একটি বিড়ালের জন্য আজাব দেওয়া হয়েছে এ জন্য যে সে বিড়ালটিকে আটকে রাখায় সেটি মারা গিয়েছিল। ফলে সে জাহান্নামে গেছে। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল কিন্তু নিজেও তাকে খাবার পানীয় দেয় নি আবার ছেড়েও দেয় নি যে সে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৭৪৫)