গরমে গ্লুকোজ পাউডারের পানী শরীরের জন্য উপকারী কী!

ডেস্ক: ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই হাত বাড়াচ্ছেন ঠাণ্ডা পানীয়ের দিকে। আর এ জন্য অনেকেই বেছে নিচ্ছেন গ্লুকোজ পাউডারের পানীয়কে। কিন্তু আপনি কি জানেন? এ পানীয় শরীরের জন্য উপকারী নাকি বিপদের কারণ!

চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয়েছে, মানব শরীরে প্রতি ১ গ্রাম শর্করা থেকে প্রায় চার কিলো ক্যালোরি তাপ ও শক্তি পাওয়া যায়। তাই শক্তি উৎপাদনের সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উৎস শর্করা বা গ্লুকোজ। তবে গরমে গ্লুকোজ পাউডার খাওয়া কতটা নিরাপদ তা অনেকেই জানেন না।

শর্করা শরীরে থাকা প্রোটিনকে রক্ষা করে। কারণ শরীরে শর্করা প্রোটিনকে ভাঙতে দেয় না। আর যার কারণে প্রোটিন ভেঙে তাপ উৎপাদন হতে শরীরকে বাঁধা দেয় গ্লুকোজ। ফ্যাট জাতীয় পদার্থের দহনেও কার্যকরী শর্করা। তাছাড়া শরীরে প্রয়োজনের বেশি শর্করা গ্লাইকোজেন রূপে পেশি ও যকৃতে জমা থাকে। এ গ্লাইকোজেনই শরীরে প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি উৎপাদনে কাজ করে।

ক্ষেত্রবিশেষে শর্করা জাতীয় কিছু খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সক্ষম। পাশাপাশি মস্তিষ্কের শক্তি, ব্রেনের কার্যক্ষমতা, শরীরের স্নায়ুবিক ক্ষমতা বাড়াতেও শর্করার জুড়ি মেলা ভার।

শর্করার এতসব উপকারিতার মাঝে বেশ কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। যেমন অতিরিক্ত গ্লুকোজ শরীরে ভালোর চেয়ে খারাপই বেশি ডেকে আনে। শরীরে শর্করা বা গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি হলে তা ধীরে ধীরে মেদের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে।

বেশি গ্লুকোজ দাঁতের ক্ষয়রোগের জন্য দায়ী। এছাড়া নানা ধরনের জটিল রোগ যেমন ডিমেনশিয়া, হৃদরোগেরও কারণ হয়ে ওঠে মাত্রাতিরিক্ত শর্করা বা গ্লুকোজ। চিকিৎসকরা বলছেন, কার্বোহাইড্রেটের অভাবে যেমন দেহের ওজন কমে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরের কর্মশক্তিও হ্রাস পেতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শরীরে বেশি গ্লুকোজ যেমন ক্ষতিকর তেমনি কম গ্লুকোজও মারাত্মক হতে পারে। তাই গ্লুকোজ পাউডার পানীয় হিসেবে খাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়। এ ধরনের পানীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ীই পান করা উচিত বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এ পানীয় আরও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। যারা একটানা বসে কাজ করে তাদের জন্যও নিরাপদ নয় গ্লুকোজ পাউডার।

কোমলমতী শিশুদের ক্ষেত্রেও এ পানীয় অনিরাপদ। তাই গ্লুকোজ পাউডারের পানীয় এড়াতে ডায়েটে প্রাধান্য দিতে পারেন ফলের রস ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। যা চটজলদি এনার্জি দেয়ার পাশাপাশি দেবে গরমে স্বস্তির পরশ।