চিফ হিট অফিসার কী? কীভাবে কাজ করে তারা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে গরমের তীব্রতা বাড়ছে। সে সাথে বাড়ছে গরমের নানা রোগবালা। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাড্রিয়েন আর্শট-রকফেলার ফাউন্ডেশন রেজিলিয়েন্স সেন্টার (আর্শট-রক)। ২০২১ সালে প্রথম চিফ হিট অফিসার নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকেও চিফ হিট অফিসার (সিএইচও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

ফাউন্ডেশনের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি, লস অ্যাঞ্জেলেস, চিলির সান্টিয়াগো, সিয়েরা লিওনের সান্টিয়াগো, গ্রিসের এথেন্স, বাংলাদেশের ঢাকা শহরে চিফ হিট অফিসার কাজ করছেন। চিফ হিট অফিসারের বেতনসহ সব খরচই বহন করবে অ্যাড্রিয়েন আর্শট-রকফেলার ফাউন্ডেশন রেজিলিয়েন্স সেন্টার (আর্শট-রক)।

চিফ হিট অফিসারের কাজ কী?

তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলা এবং নগরে ‘হিট আইল্যান্ডে’র প্রভাব কমানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন করেন চিফ হিট অফিসার। কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থা, ব্যক্তি, নাগরিক সমাজ, দাতাসংস্থাসহ সব পক্ষকে সম্পৃক্ত এবং সমন্বয় করার দায়িত্ব তার।

আর্শক-রক  বহু বছর ধরে নগরে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে কাজ করছে। সৃষ্ট সমস্যাগুলোর বৈজ্ঞানিক এবং কারিগরি সমাধান খুঁজে বের করে তার বাস্তবায়নে জোর দেয় তারা।

বাংলাদেশে চিফ হিট অফিসার: গত কয়েক বছর ধরে ঢাকায় গরম ক্রমেই বাড়ছে। ধীরে ধীরে তা মানুষের সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। কর্মজীবনের কারণে বাধ্য হয়ে ঢাকায় থাকছে তারা। অনেকে পরিবার গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে। নানা রোগের শিকার হচ্ছে মানুষ। ঢাকার তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টায় যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাড্রিয়েন আর্শট-রকফেলার ফাউন্ডেশন রেজিলিয়েন্স সেন্টারের (আর্শট-রক) সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

সমঝোতা চুক্তি অনুষ্ঠানে বুশরা আফরিনকে উত্তর সিটির চিফ হিট অফিসার করার ঘোষণা আসে। বুশরা আফরিন এশিয়ার প্রথম কোন শহরের চিফ হিট অফিসার।

চিফ হিট অফিসার হিসেবে তিনি যেসব কাজ করতে চান: তীব্র তাপপ্রবাহের মত একটা অদৃশ্য ঝুঁকির বিষয়ে মানুষকে জানাতে হয়। তাপপ্রবাহের মধ্যে বাইরে গেলে কী করতে হবে সে পরামর্শ দেওয়া হয়। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের প্রধান শিকার সাধারণ মানুষ। সেজন্য নীতি নির্ধারণী পর্যায়েও তাদের সম্পৃক্ত করা হবে। যারা তীব্র তাপপ্রবাহের শিকার কিন্তু নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নেই তাদের কথা শুনতে হবে। বিশেষ করে নারীরা সবচেয়ে বেশি শিকার, তারা যেন এটা নিয়ে কথা বলে। তাদের কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে, নাগরিকরা কী চাচ্ছেন…।

বুশরা জানান, চিফ হিট অফিসাররা সান্টিয়াগোতে কুলিং পেভমেন্ট, কুল রুফ, ফ্রিটাউনে ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন, কিছু শহর বনায়নসহ নানা উপায়ের প্রয়োগ করছেন। এ ধরনের সমাধানগুলো খুঁজে বের করে বাংলাদেশের উপযোগী পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করা হবে।

“আমাদের এখানে জায়গা কম, তাই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে মিনিয়েচার ফরেস্ট কীভাবে করা যায় সেটা চিন্তা করব। তীব্র তাপপ্রবাহের সমস্যা সমাধানে অনেক ধরনের সমাধান রয়েছে। সেগুলো আমাদের খুঁজে বের করে স্থানীয় বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রয়োগ করতে হবে। কী করব, কীভাবে করব সেজন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।”

তিনি বলেন, “ডিএনসিসি এরইমধ্যে নেচার বেইজড সল্যুশন নিয়ে কিছু কাজ করছে। আমি নিশ্চিত, আরও অনেক সমাধান আছে। সেগুলো বের করতে হবে। নেচার বেইজড সল্যুশন সবদিক থেকে ভালো। তবে নেচার বেইজড, নাকি টেকনিক্যাল বেইজড সল্যুশনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে সেটা আমরা ঠিক করব।”

তিনি জানান, নগরের তীব্র তাপপ্রবাহে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়নের অর্থের জোগান দেবে আর্শট-রক। এতে উত্তর সিটিরও একটি অংশগ্রহণ থাকবে।