জামদানি শাড়ির যত্নে ৭ টিপস

ডেস্ক: শাড়ি বাংলাদেশের নারীদের ঐতিহ্যবাহী ও নিত্যনৈমিত্তিক পরিধেয়। নারীরা শাড়ি কিনতে দ্বিধাগ্রস্থ হয় না। কিছু শাড়ি নিয়মিত পড়ার। কিছু শাড়ি হয় শখের। অনুষ্ঠান বা বিশেষ দিনে এসব শাড়ি পড়া হয়। জামদানিও ঠিক সেরকমই শাড়ি। ফলে দীর্ঘদিন রেখে এই শাড়ি ব্যবহার করতে ভালোবাসেন নারীরা।

মিহি সুতা ও অপূর্ব কারুকাজ জামদানিকে শাড়িকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তবে জামদানি শারীর যত্ন কিন্তু অন্যান্য শাড়ির যত্নের মতো নয়। খানিকটা বিশেষ ও বাড়তি যত্ন প্রয়োজন এই শাড়িগুলোর। জেনে নিন কীভাবে দীর্ঘদিন ভালো রেখে জামদানি ব্যবহার করবেন।

এক. সুতি হোক কিংবা হাফসিল্ক হোক, জামদানি শাড়ি কোনোভাবেই বাসায় ধোয়া যাবে না। জামদানি বোনার আগে সুতায় মাড় দেওয়া হয়। পানি লাগলে তাই সুতাগুলো আলাদা হয়ে শাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। শাড়ি লন্ড্রিতে দিয়ে কাটা ওয়াশ করাবেন।
দুই. জামদানি ভাঁজ করবেন না। এতে ভাজের অংশের সুতা সরে গিয়ে ফেঁসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। গোল করে পেঁচিয়ে রাখবেন জামদানি। এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন মোটা ও লম্বা লাঠি কিংবা পাইপ।
তিন. বর্ষার সময়ে আদ্রর্তার কারণে জামদানির জমিনে ফাঙ্গাস পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে সুতা পচে যেতে পারে বা জমিনের রঙ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এই সময় রোদে মেলে দিতে হবে মাঝে মাঝে। তবে খুব কড়া রোদে দেওয়া যাবে না জামদানি।

চার. জামদানির বুননটাই আসল। ব্যবহার করতে করতে অনেক সময় শাড়ির সুতা নরম হয়ে যায় বা মাড় নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ফেঁসেও যেতে পারে। সুতার শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে কাটাই করাতে হবে ২ বা ৩ বছর পরপর।
পাঁচ. খেতে গিয়ে শাড়িতে ঝোল পড়ে গেলে পানি লাগাবেন না। সঙ্গে সঙ্গে খানিকটা ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে দিন। এরপর লন্ড্রিতে দিন কাটা ওয়াশ করার জন্য।
ছয়. দীর্ঘদিন একইভাবে জামদানি রেখে দিলে নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে যদি ভাঁজ করে রাখেন। যত বেশি ব্যবহার করবেন, শাড়ি ততই ভালো থাকবে। কেবল বিয়ে বা জমকালো অনুষ্ঠানে পরার জন্য উঠিয়ে না রেখে তাই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার সময়ও গায়ে জড়ান প্রিয় জামদানিটি। তুলে রাখার আগে ফ্যানের বাতাসে ভালো করে শুকিয়ে নেবেন।
সাত. জামদানি শাড়ি কেনার পর পাড়ে ফলস লাগিয়ে নেবেন। আঁচলে লাগিয়ে নিন নেট। এতেপাড় ভাঁজ হবে না কিংবা ঘষা লেগে নষ্ট হবে না শাড়ি।