তারাবির হাফেজদের উদ্দেশ্যে দেওবন্দ মুহতামিমের নসিহত

।। মুফতি আবুল কাসেম নোমানী।।
।। উর্দূ থেকে ভাষান্তর: নুর আলম সিদ্দিকী।।

পবিত্র কুরআনের সঙ্গে রমজান মাসের এবং রমজান মাসের সঙ্গে কুরআনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে রমজানের মাহাত্ম্য বর্ণনা ও পরিচয় উল্লেখ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন- شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ (البقرہ: ۱۸۵)

রমজান মাস হল সেই মাস যে মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে”, (সূরা-বাকারা: ১৮৫ )

এই আয়াতের দ্বারা রমজান মাসের মর্যাদা বোঝা যায় যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনের মত একটি মহান গ্রন্থ নাযিল করার জন্য এই মাসটিকে বেছে নিয়েছেন। তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেছেন- اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ

নিশ্চয়ই আমি এটি নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল ক্বদরে।’( সূরা কদর: ১ )

অর্থাৎ এই আয়াতটি শবে কদরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে আর এই রাতটিকেই আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাজিল করার জন্য বেছে নিয়েছিলেন।

এই কারণেই পবিত্র কুরআনের সাথে সম্পর্ক রেখে রমজানে একটি বিশেষ ইবাদতকে শরিয়ত সিদ্ধ ( বৈধ ) ঘোষণা করা হয়েছে।

একে “তারাবির নামাজ” বলা হয়, যাতে দুটি সুন্নত আদায় করা হয়:

১। জামায়াতে ২০ রাকাত তারাবিহ আদায় করা।

২। তারাবি নামাজে একবার সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত করা।

এ দুটি স্বতন্ত্র সুন্নাত, পুরা রমজান মাসে জামায়াতে ২০ রাকাত তারাবি আদায় করা এবং সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত বা শোনা একটি স্বতন্ত্র সুন্নত।

রমজানে তারাবির নামাজ। এটি একটি স্বতন্ত্র সুন্নত। মনে রাখতে হবে, একটি সুন্নহ আদায় করতে গিয়ে অন্য আরেকটি সুন্নহ যেন ছুটে না যায়। অনেকে তারাবির নামাজে পবিত্র কুরআন কয়েক দিনের মধ্যে খতম করে ফেলে এবং তারা নিজেদেরকে মুক্ত মনে করে; এটা ভুল ধারণা।

তারাবিতে কুরআন মাজিদ খতম হয়েছে, একটি সুন্নাহ আদায় হয়েছে; কিন্তু হাফেজ-গায়রে হাফেজ সকলের জন্যই সম্পূর্ণ কুরআন শরিফ পুরা রমজানে তারাবিহ নামাজে তেলাওয়াতের সুন্নত সর্ব অবস্থাতেই রয়ে গেছে।

তারাবিহ নামাজের ইমামদের জন্য কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়- পবিত্র কুরআন পড়ার কিছু আদব আছে;

প্রথম বিষয় : আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- اَوۡ زِدۡ عَلَیۡهِ وَ رَتِّلِ الۡقُرۡاٰنَ تَرۡتِیۡلًا

আর স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে কুরআন তেলাওয়াত করো ( সূরা মুজ্জাম্মিল: ৪ )

তারাবিও স্থিরভাবে পড়তে হবে, গতি দ্রুত হতে হবে; কিন্তু অবশ্যই হরফ সহিহভাবে পাঠ এবং সিফাতের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। মদ ও গুন্নাহ তরক করা যাবে না ।

একইভাবে, ওয়াকফের আয়াত, যেখানে “ওয়াও” বা একটি “ইয়া” আছে সেখানে কমপক্ষে এক আলিফ ( মদ ) টানা অবশ্যক। ( عَالَمِیْنَ “ ”یَعْلَمُوْنَ “ ” تَعْلَمُوْنَ “ )

কিন্তু یَعْلَمُنَ “ ” تَعْلَمُنَ“ ”عَالَمِنَ“ পড়লে তা আদায় হবে না।

মদ্দের তিনটি স্তর রয়েছে: “মদ্দে কসর”, “মদ্দে মুতাওয়াসসিত” এবং “মদ্দে তেওয়াল”

এ তিন স্তরের মধ্যে অন্তত সর্বনিম্ন একটি স্তর ( এক আলিফ মদ ) অবশ্যক। নয়তো কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত অসম্পূর্ণ থাকবে।

দ্বিতীয়ত: যদি এমন দ্রুত গতিতে তেলাওয়াত করা হয়, যার ফলে হরফগুলো সঠিকভাবে উচ্চারণ হয় না ,তাহলে তা কুরআনের সাথে বেয়াদবি; চাই তা তারাবিতে হোক বা ফরজ নামাজে হোক।

এই ধরনের তেলাওয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে: কিছু লোক আছে যারা কুরআন তেলাওয়াত করে কাুরআন তাদের অভিশাপ দেয়। তাই এবিষয়ে হাফেজদেরকেই খেয়াল রাখতে হবে।

তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআনকে শুধুমাত্র রমজান মাসেই তেলাওয়াতে মগ্ন থাক উচিত নয়, বরং সারা বছর কুরআন মুখস্ত ও তিলাওয়াত করতে হবে।