দেনমোহর নির্ধারণের সময় যেসব ভুল করি

বিয়ে রাসুল সা.-এর সুন্নত। ইসলামে কোনো নারীকে বিয়ে করলে তাকে অবশ্যই মোহর দিতে হবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে মানুষকে দেখানোর জন্য কোটি টাকা মোহর ধার্য করতে হবে। মোহর ধার্য করা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, মোহর স্ত্রীর অধিকার। স্ত্রীর হক আদায় না করলে গুনাগার হতে হবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হল, যদি তোমরা তাদের মোহর প্রদান কর বিয়ের জন্য, প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী হিসেবে নয়। -(সুরা মায়েদা. আয়াত, ৫)

দেনমোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমাজে অনেক ধরনের ভুল প্রচলন রয়েছে। আবার অনেকের এ বিষয়ে সঠিক কোনও ধারণাও থাকে না। তাই বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণে বেশ কিছু ভুল করে বসেন। সমাজে ঘটে চলা এমন কিছু ভুল-

মোহর পরিশোধের ইচ্ছা না রেখে শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য নির্ধারণ করা

দেনমোহর নির্ধারণে সমাজের অনেকেই একটি মারাত্মক ভুল করে বসেন। পরিশোধের কোনও ইচ্ছা না রেখে শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য মোহর নির্ধারণ করেন।

স্ত্রী তার অধিকারের বিষয়ে সচেতন থাকুন বা না থাকুন তা আদায়ে স্বামীর কোনও ইচ্ছা থাকে না। অনেকের দৃষ্টিতে মোহর একেবারে একটি সাধারণ লেনদেন। এমনকি মোহরের পরিমাণ কম-বেশি করার কোনও আলোচনা হলে অনেকে নিঃসঙ্কোচে বলে বসেন- একটা পরিমাণ নির্ধারণ করলেই হলো। ‘কে দেয় আর কে নেয়?’ কেউ কেউ সরাসরি বলেও ফেলে, মোহর শুধু নামের জন্য। আদান-প্রদানের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

লোক দেখানোর জন্য বড় অংকের মোহর নির্ধারণ

সামর্থ্য না থাকার পরেও অনেকে শুধু লোক দেখানোর জন্য খেয়াল-খুশি মতো বড় অংকের মোহর নির্ধারণ করে থাকে। অথচ সক্ষমতা না থাকলে বিশাল অংকের মোহর নির্ধারণ করা উচিত নয়। কারণ এতে হাদিসে বর্ণিত কড়া হুঁশিয়ারির পাত্র হয়ে যাবে সে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো- সামর্থ্যের মধ্যে অল্প টাকা নির্ধারণ করা। যেন সহজেই আদায় করা সম্ভব হয়।

বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক এড়ানোর জন্য অধিক মোহর নির্ধারণ

অনেকে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক এড়ানোর জন্য অতিরিক্ত মোহর নির্ধারণ করে থাকে। তাদের ধারণা হলো- মোহরের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে স্বামী চাইলেও স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে পারবে না। অথচ এই ধারণা অমূলক। কারণ, কোনও দম্পতির মাঝে বনিবনা না হলে এবং একসঙ্গে থাকা সম্ভব না হলে তারা মোহরের পরিমাণের প্রতি খেয়াল করে না, সব প্রতিবন্ধকতা পার করে হলেও বিচ্ছেদের পথে যায়।

এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় হলো- সব ক্ষেত্রে ছেড়ে না দেওয়াটা কল্যাণকর নয়। কারণ, যে ব্যক্তি মোহরের ভয়ে স্ত্রীকে ছেড়ে দেয় না সে ছাড়ার থেকেও নিকৃষ্ট কাজ করে। অর্থাৎ তালাক না দিলেও স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচরণ করে না, তার ভরণপোষণ ঠিক মতো দেয় না, অধিকার ঠিকমত আদায় করে না। তাই মোহর নির্ধারণে এই ভুল কাজগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি। -(ইসলাহে ইনকিলাব, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা : ১২৭, মুসলিম বর-কণে, ১৫৪)

—(ঢাকা পোস্ট থেকে নেয়া)