বান্দার অর্জনের শ্রেষ্ঠ রাত শবে কদর

আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য যেই উপহার রেখেছেন তার মধ্যে থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার হলো শবে কদর। যার দ্বারা বান্দা সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করে থাকে । তাই রাতকে অর্জনের রাত বলা হয়। আর এই রাত সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। এ রাত হাজার মাসের থেকেও উত্তম। এ রাতে বান্দা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিজেকে ক্ষমা প্রার্থনা করার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে গোনাহ মাফের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করারও সুযোগ থাকে।

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা: এ রাতের মর্যাদা এত বেশি, বিশ্বনবী এ রাতটি পাওয়ার জন্য শেষ দশকে আজীবন ইতেকাফ করেছেন। নবী তার উম্মতদের জন্য বলেছেন, ‘আমি কদরের রাতের সন্ধানে (রমজানের) প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। এরপর মধ্যবর্তী ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। তারপর আমার প্রতি ওহি নাযিল করে জানানো হলো- তা শেষ ১০ দিনে রয়েছে। সুতরাং, তোমাদের মধ্যে যে ইতিকাফ পছন্দ করবে সে যেন ইতিকাফ করে। এরপর মানুষ (সাহাবায়ে কেরাম) তার সঙ্গে ইতিকাফে শরিক হয়।’ (মুসলিম শরীফ)

লাইলাতুল কদর রাতের ফজিলত: পবিত্র আল-কোরআন নাযিল হওয়ার জন্য এই অন্যসব মাসের থেকে রমজান মাস বেশি ফজিলত ও বরকতময় হয়েছে। আর এই মাসের রাতগুলোর মধ্যে কোরআন নাযিলের রাত লাইলাতুল কদর অনেক তাৎপর্যমণ্ডিত একটি রাত।

এ রাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আমি একে কদরের রাতে নাযিল করেছি। তুমি কি জানো কদরের রাত কি? কদরের রাত হাজার মাসের থেকেও উত্তম।’ (সূরা: কদর, আয়াত: ১-৩)।

লাইলাতুল কদরের আমল: কিছু আমল ও দোয়ার মাধ্যমে এই রাত অতিবাহিত করা জরুরি। আমলগুলো হলো- এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া, মসজিদে ঢুকেই ২ রাকাত (দুখুলিল মাসজিদ) নামাজ পড়া, দুই দুই রাকাত করে (মাগরিবের পর ৬ রাকাত) আউওয়াবিনের নামাজ পড়া। এরপর রাতে তারাবির নামাজ পড়া, শেষ রাতে সাহরির আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।

আরও পড়ুন: শবে কদরের নামাজের নিয়ত-নিয়ম ও দোয়া

এ রাতে সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ পড়া। সম্ভব হলে তাওবার নামাজ আদায় করা, সালাতুল হাজাত পড়া, সম্ভব হলে সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।

এছাড়াও কোরআন তেলাওয়াত করা, সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাসির, সুরা ইয়াসিন, সুরা ত্বহা, সুরা আর-রাহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা কুরাইশ এবং ৪টি কুল পড়া। দরূদ শরিফ পড়া, বেশি বেশি তাওবাহ-ইসতেগফার পাঠ করা, সাইয়্যেদুল ইসতেগফার পাঠ করা, বেশি বেশি জিকির-আজকার করা ও পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও মৃতদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা এবং দান সদকা করা।