বাড়ির নাম কবিতা কুটির

সুরমী খান।।

আভিজাত্য কোন বাড়ি নয় এটি,
অনেকটা পুরনো ধাঁচের এই বাড়িতেই জন্ম হয় অগণিত কবিতার!
শ্যাওলা জমা বারান্দার বাহিরের দেয়ালটা নিজেই যেন আস্ত একটা কবিতা,
তিন হাত উঁচু দেয়ালে গ্রীল তোলা বারান্দার
ওই লোহার গ্রীলে জমা বৃষ্টি জলেও একটা কবিতার জন্ম হয়,
বারান্দার এক কোণায় লতিয়ে উঠা অপরাজিতার সবুজে ছেয়ে যাওয়া অরণ্যে
সৌন্দর্য্য ঠিকরে ছড়িয়ে থাকা নীল, সাদা, বেগুনী ফুলগুলো
নিজেই যেন চাষ করছে এক একটা জীবন্ত কবিতাকে,
গাছগাছালির সাথে প্রেমে জড়িয়ে যাওয়া মেয়েটার
গাছেদের যত্ন নেয়ার দৃশ্যেও যেন সঙ্গম হয় কবি ও প্রকৃতির, জন্ম হয় কবিতার
বসার ঘরের এক কোণে সযত্নে রাখা এ্যাকুইরিয়ামে ভেসে থাকা রঙবেরঙের মাছেদের জীবন চিত্রেও
অজস্র কবিতার ভাবনা ডেকে যায় অতি সঙ্গোপনে,
পড়ার ঘরের ফাঁকা চেয়ারটা, ধূলো জমা বইয়ের তাকটা সবকিছু থেকেই যেন কবিতাদের আহব্বান!

তেত্রিশ বছর আগে জীবনের ঠিক তেত্রিশ বছর এখানেই কাটিয়ে ছিলো
অনন্ত কবিতা পোষা এক কবিতা মেয়ে,
যার রেখে যাওয়া কবিতাকে ভালোবেসে ঠিক তেত্রিশ বছর পর
আবারও কোন কবিতাপোষা মেয়ের আগমন এখানে!

নব্য কবিতা মেয়ে প্রায়শই খোলা চুলে উদাস মনে গ্রীল ধরে দৃষ্টি মেলে দেয়
অনন্ত ছুটে চলা দৃশ্যত শূন্যতা বলে আমরা যেই আসমানকে বুঝি, তার পানে।
দেখতে দেখতেই যেন ডুবে যায় ভাসমান তরী ভাবনার অতল গভীরতায়,
যেন মেঘেদের ভাঁজে করে অতি প্রিয় কেউ চিঠি পাঠিয়েছে তার কাছে,
যে চিঠি পড়তে পড়তেই কোন এক অজানা রাজ্যে নব্য কবিতা হারিয়ে যায়।

ভাবনার রাজ্য ছেড়ে ফিরতি পথের যাত্রা ধরে কবিতাদের যত্ন করে নিয়ে আসে সে,
তারপর চুপিসারে বলে যায়-
এই বাড়িটার ইটের ফাঁকে, ধূলোর খাঁজে, রঙচঙে সব দেয়াল জুড়ে কবিতারা বসত করে,
এই বাড়িতে পরম যত্নে হাত বুলাতে ইচ্ছে করে,
বুকের কাছটায় এনে তুলে রেখে খুব যতনে
এখানের সবকিছুকেই নিজের করে ভাবতে ভালো লাগে,
কবিতারা ভালোবেসে তৃপ্তির হাসি হেসে পরম মমতায় বলে উঠে
এই তো আমার পুরনো দেয়াল জুড়ে সহস্র কবিতা টাঙানো “কবিতা কুটির।”