ভালোবাসার ঠিকানা পেল পাখিরা

ঘূর্ণিঝড় ইয়াশের তাণ্ডবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। উপড়ে গিয়েছে বড় বড় গাছ। বাসা হারিয়ে বাস্তুহারা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে পাখির দল। তাদের জন্য তো কোনো ত্রাণ নেই। এই বাস্তুহারা পাখিদের জন্য বিশেষভাবে কৃত্রিম বাসা তৈরির উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গের পটাশপুর থানার পঁচেট গ্রামের জুয়েল স্টার ক্লাব।

ক্লাব সদস্যরা উদ্যোগ নিয়ে গাছের ওপর রেখে দিচ্ছেন ছোট ছোট বাঁশের উপকরণ দিয়ে তৈরি কৃত্রিম পাখির বাসা। বাসার ভেতরে দেওয়া হচ্ছে খড় ও শুকনো পাতা, বটগাছের ঝুড়ি রাখা হয়েছে কৃত্রিম বাসায়। যাতে সাময়িকভাবে পাখিরা আশ্রয় খুঁজে নিতে পারে।

গত শনিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এমনই উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে পঁচেট জুয়েল স্টার ক্লাবের সদস্যরা। ইতিমধ্যেই পাখিদের জন্য বাসাগুলোতে খাবার দিচ্ছে। পঁচেটের বাজার, সমিতি, রাজবাড়ী এলাকা চিহ্নিত করে বিভিন্ন গাছে ছোট ছোট ঝুড়ি ও মাটির কলসি বেঁধে রেখে এসেছে ক্লাবের সদস্যরা। যাতে অন্তত কিছুটা হলেও পাখিদের বাসার সমস্যা দূর হয়। ক্লাবের সদস্যদের ভরসা পাখিরা ঘুরে দাঁড়াবেই। তারা নিজেদের বাসা নিজেরাই তৈরি করে নেবে। আপাতত সামান্য একটু বন্দোবস্ত বলে জানিয়েছেন ক্লাবের কর্মকর্তা সৈকত মাইতি।

ক্লাব সদস্যদের বক্তব্য এমনিতেই সারা বিশ্বে জনবসতি বৃদ্ধি ও গ্রাম-নগর উন্নয়নের জন্য গাছ কাটা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে শেষ হচ্ছে প্রকৃতি। সেইসঙ্গে বিপদে পড়েছে প্রাণীজগৎ। পাখিরাও রয়েছে সেখানে। এ নিয়ে নানা সময় অভিযোগে তুলেছেন পরিবেশবিদরা।

তারা আরও জানান, প্রথমে আম্পান ঘূর্ণিঝড় আসায় পাখিদের বড় ক্ষতি হয়। বহু ছোট-বড় গাছ ভাঙে। অনেক পাখি মারা গিয়েছে। এরপর ইয়াশ ঝড়ের দাপটে সেই একই অবস্থা। ৩০টি কৃত্রিম পাখির বাসা বানিয়ে এলাকার বিভিন্ন গাছে রেখে পাখি সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এ কর্মসূচিতে ছিলেন সংস্থার সদস্য সৈকত মাইতি, নন্দন রাউৎ, সুব্রত রাউৎ, নন্দন রাউৎ, প্রদীপ মাইতি, প্রবীর দাস। তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বাসা হারিয়ে এবার ভালো-বাসার নতুন ঠিকানায় পটাশপুরের পাখির দল।