মেধাশক্তি বৃদ্ধির ৬ উপায়

ফরহাদ খান নাঈম

মানবমস্তিস্কে থাকা মেধাশক্তি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি বিরাট নেয়ামত। আমরা আমাদের এই মেধাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞানার্জন করি ও এতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করি। মাঝেমধ্যে এই স্মৃতিশক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের অতীত ভ্রান্তিগুলো স্মরণ করি যাতে করে আমরা আরও ভালো মানুষে পরিণত হতে পারি।

মানুষ মাত্রই ভুলে যায়, ভুল করে। তবে অস্বাভাবিকভাবে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে ও মেধার শক্তি বাড়াতে ইসলাম আমাদেরকে কিছু উপায় বাতলে দিয়েছে।

১. দোয়া করা

সুস্থ মেধার অধিকারী হতে হলে আল্লাহর কাছে দোয়া করার কোনো বিকল্প নেই। উপকারী জ্ঞান, সুন্দর বোধশক্তি ও তীক্ষ্ণ ধীশক্তি – এ সব কিছুর জন্যই আল্লাহ তায়ালার নিকট ধরনা দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালার জন্য কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

মেধাশক্তির বিকাশ ও বৃদ্ধির জন্য কোরআনে একটি চমৎকার দোয়ার উল্লেখ রয়েছে-
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
অর্থ: হে আল্লাহ, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও এবং আমার কাজ সহজ করে দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। সূরা ত্বোয়া-হা: ২৫ – ২৮

২. সময়মতো বিশ্রাম করা

মেধাশক্তি বাড়াতে ও শরীরের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট পরিমাণে ঘুমানো, সময়মতো বিশ্রাম করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা যখন ঘুমাই, আমাদের সাথে সাথে আমাদের মহাব্যস্ত মস্তিষ্কটাও তখন বিশ্রাম করে। এতে করে জেগে ওঠার পর মস্তিষ্ক পুনরায় নবউদ্যমে কাজ শুরু করে, এবং এর কার্যক্ষমতা বহুলাংশে বেড়ে যায়।

নবীজি সা. জোহরের পর আমাদেরকে একটু সময় ঘুমিয়ে নিতে বলেছেন। সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতিদিন দুপুরে নিয়ম করে একটু ঘুমিয়ে নিলে মস্তিষ্কের বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৩. মধু ও কিশমিশ খাওয়া

অনেক বিজ্ঞজন ধীশক্তি বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত মধু, কিশমিশ ও যষ্ঠিমধু খেতে বলেছেন। ইমাম জুহরি রহ. বলেন, তোমরা মধু পান করো, কারণ এটি মেধাশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি হাদিস মুখস্থ করতে চায়, তার কিশমিশ খাওয়া উচিত। আল জামি: ২/৩৯৪

আল জামি: ২/৩৯৭ এ আরও বলা হয়েছে, তোমরা যষ্ঠিমধু খাও, কারণ এটি হৃদয়ে শক্তি আনে এবং স্মৃতিভ্রম দূর করে।

৪. পাপাচার থেকে বিরত থাকা। অতি মাত্রায় পাপকর্মের ফলে মানুষের মেধাশক্তি লোপ পায়। কারণ পাপাচারের অন্ধকার কখনোই জ্ঞানের আলোর সাথে সহাবস্থান করতে পারে না।

জ্ঞান যেহেতু আল্লাহপ্রদত্ত নূর তথা আলো, সুতরাং আল্লাহর নূর কখনোই শয়তানের কালিমার সাথে মিশতে পারে না। পাপ কর্ম করতে করতে একসময় মানুষের বোধশক্তি লোপ পায়, তখন সে আর ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না।

৫. মেসওয়াক করা

নিয়মিত মেসওয়াক করা রাসুলুল্লাহ সা. এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাজের শুরুতে তাদেরকে মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম। বুখারী: ৬৮১৩

মেসওয়াক দাঁত ও মাড়ির সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেধাশক্তি বৃদ্ধিতেও বেশ কার্যকরী। রসায়ন বিশ্লেষকরা বলছেন, মেসওয়াকের মধ্যে মোট ১৯টি প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে; যেগুলো দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষার সাথে সাথে ধীশক্তির তীক্ষ্ণতা বাড়ায়‌।

৬. বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করা

ইসলামী বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করলে মেধাশক্তির উৎকর্ষতা সাধিত হয়। পবিত্র কোরআনে এসেছে, তুমি যদি ভুলে যাও তাহলে তোমার প্রভুকে স্মরণ কর। সূরা কাহফ: ২৪।

আল্লাহকে স্মরণ করার সর্বোত্তম উপায় হলো, অধিক পরিমাণে তাঁর জিকির করা। আর সর্বোৎকৃষ্ট জিকির হলো- তাসবিহ তথা সুবহানাল্লাহ বলা, তাহমিদ তথা আলহামদুলিল্লাহ বলা, তাহলিল তথা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা এবং তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলা।

আল্লাহ তায়ালা দয়া করে আমাদের মস্তিষ্কে মেধাশক্তি দান করেছেন। আমাদের আশেপাশে এমন অনেকেই আছেন যারা ব্রেইন তথা মস্তিস্কের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও মেধাহীন। সুতরাং আল্লাহ তায়ালার এই বিশেষ নেয়ামতের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই এর যথোচিত ব্যবহার নিশ্চিতপূর্বক তাঁর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে।