মে মাসে ফুটে যে ফুল

ডেস্ক: ‘মে ফ্লাওয়ার’ প্রকৃতিতে তার অস্তিত্ব ও সৌন্দর্য জানান দেয় মে মাসে। বছরের অন্য সময় ফুল ফুটতে দেখা যায় না। ফুল ফোটার ব্যাপ্তি মে মাসজুড়ে। এর রয়েছে আরও কিছু পরিচিত নাম- ফায়ার বল, বল লিলি, গ্লোব লিলি, আফ্রিকান ব্লাড লিলি ইত্যাদি। মে ফ্লাওয়ার কন্দজাতীয় ফুল গাছ।

গ্রীষ্মের আগমনে মাটি ভেদ করে ফুলের ডাঁটা বের হয়, ফুলের কলি জন্মে আর মে মাসের শুরু থেকেই উজ্জ্বল লাল রঙের মাঝে হলুদ-সাদা আভার মিশ্রণে গোলাকার বল আকৃতির ফুল ফোটে। গড়নের দিক থেকে কদম ফুলের মতো। তবে আকারে আরও বড়। ফুল গন্ধহীন। ফুটন্ত ফুল দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। যে কারও মন জয় করতে পারে। পাপড়ি ও পুংকেশর অসমান। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফল গোলাকার থেকে লম্বা। রং গাঢ়-ধূসর ও শক্ত।

এর অপর একটি প্রজাতির সাদা রঙের ফুল ফোটে। তবে সাদা রঙের ফুল সচরাচর আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে দেখা যায় না। ফুলের ডাঁটা ও গাছের গড় উচ্চতা প্রায় ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ছোট গাছ দেখতে অনেকটা ছাতার মতো। ফুলের ডাঁটা গোলাকার, ডাঁটা ও গাছের পাতার রং সবুজ, রসাল এবং নরম প্রকৃতির হয়।

মে ফ্লাওয়ারের আদি নিবাস আফ্রিকা। ইংরেজি নাম Blood Lily। এর বৈজ্ঞানিক নাম Scadoxus multiflorus এবং পরিবার Amarllidaceae। এই গাছের বৈশিষ্ট্য হলো- প্রথমে ফুল আসে; তারপর পাতা আসে। এটার কাণ্ড সারাবছর মাটির নিচে থাকে। ইংরেজি মে মাসেই মাটি ভেদ করে ফুলটি বের হয়। এ Amarllidaceae পরিবারের কোনো একটা ভ্যারাইটি মে মাসের শুরুতে ফোটে বলে এ জাতীয় ফুলগুলোর নাম ‘মে ফ্লাওয়ার’ রাখা হয়েছে।

এর ওষুধিগুণ সম্পর্কে ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, এটা কিন্তু ‘পয়জনাস প্লান্ট’ অর্থাৎ, কিছুটা বিষাক্ত জাতীয় উদ্ভিদ। যেসব ছাগল বা ভেড়া এর পাতা খায় তাদের শরীরে কিন্তু বিষক্রিয়া হয়। আফ্রিকাতে এই বৃক্ষটির কস বা রস ‘অ্যারো-পয়জন’ শিকারের তীরের মধ্যে এর কস ব্যবহার এবং মাছ ধরতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ‘ফিসিং-পয়জন’ অর্থাৎ মাছ শিকারের এর ব্যবহার হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী ওষুধেও এ বৃক্ষটি ব্যবহার করা হয়।

বিস্তৃতি পূর্ব ভারত থেকে মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া। তবে আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশে এ ফুল বেশ মানিয়ে নিয়েছে। তাই পুষ্পপ্রেমীরা বাগানে, বারান্দার টবে, ছাদ বাগানে স্থান দিয়ে এদের সৌন্দর্য উপভোগ করে।

এ ছাড়া নার্সারি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগান, পার্ক ও উদ্যানে এ ফুল দেখতে পাওয়া যায়। মে ফ্লাওয়ার উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু জমিতে প্রায় সব ধরনের মাটিতে জন্মে। এ ছাড়া হালকা ছায়াঢাকা ভেজা মাটিতেও এদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয় না। সরাসরি মাটি ও টবে খুব সহজে উৎপাদন উপযোগী ফুল। কন্দ ও বীজের মাধ্যমে এদের বংশবিস্তার ঘটে।