যেভাবে এলো পিৎজা

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি খাবার পিৎজা (pizza)। এটি সাধারণত তৈরি হয়, গোলাকৃতি রুটির ওপর পনিরের প্রলেপ দিয়ে। সাথে অবশ্যই টমেটো এবং কখনো কখনো টমেটোর সস থাকে। এছাড়া স্থান, সংস্কৃতি এবং রুচি ভেদে আরো অনেক কিছুই যোগ করা হয়। যেমন মাংস, সবজি বা পেঁয়াজ কুচি।

এই খাবারটির উদ্ভাবন হয়েছে মূলত ইতালির নেপলস শহরে। জানা যায়, পিৎজা নামকরণ করা হয়েছে ল্যাটিন শব্দ ‘পিনজা’ থেকে। যা আবার এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘পিন্সের’ থেকে, যার অর্থ পাউন্ড করা অথবা স্ট্যাম্প করা।

পিৎজার আসল উৎপত্তি এখনও অজানা। মনে করা হয় যে, এই ধরনের খাবারের উৎপত্তি রোমানীয় চ্যাপ্টা রুটি ফোকাসিয়া থেকে। আনুমানিক আঠারো বা উনিশ শতকে ইতালির নেপলসে আধুনিক পিৎজার আবির্ভাব হয়। সেইজন্য তখনকার দিনে তার নাম ছিল নেপোলিটান পাই। তবে প্রাচীন গ্রিক, মিশরীয়, আর্মেনীয় ইত্যাদি খাবারেও এর কিছু উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীন গ্রিকরা (একে প্লাকুওস বলত) তাদের রুটি ওপরাংশে তেল, লতাগুল্ম এবং পনির দিয়ে উনুনে সেঁকে খেত। এছাড়া প্রাচীন রোমানরা এটিকে একটু উন্নত করে পাতলা রুটির ওপর পনির, মধু, ও তেজপাতা লাগিয়ে খেত।

তবে ১৫২২ সাল নাগাদ যখন টোমেটো এবং সেই জাতীয় সবজি পেরু থেকে ইউরোপে বানিজ্যের কারণে আসে, তখন বিষাক্ত ফল মনে করে সেগুলো খাওয়া হত না এবং তা অভাবি মানুষদের কাছে সহজলভ্য ছিল। তারা তখন ইস্ট এর সাথে ময়দা মিশিয়ে তাতে টোমেটো ও অন্যান্য মশলা দিয়ে খেতে শুরু করে। পরবর্তীতে তা বিশেষ জনপ্রিয় হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে পারস্য সৈনিকদের পাতলা রুটির উপর চীজ ও খেজুর দিয়ে খাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, পিৎজার উৎপত্তি পিজ্জারেল থেকে, যা আসলে রোমান জিউসদের খাবার ছিল। মনে করা হয় যে, রাফায়েল এসপোসিটো নামক এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম আধুনিক পিৎজার আবিষ্কার করেন। তিনি এই পিৎজা ১৮০০ শতকে রাজা উম্বেরত ও রানী মারগারিটার জন্য চীজ, বেসিল, টোম্যাটো সহযোগে বানান, যা তাদের খুবই পছন্দ হয় এবং তখন থেকে এর নাম ‘পিৎজা মারগারিটা’ রাখা হয়। পিৎজার দোকান খোলা হয় নেপলসের পোর্ট অ্যালবাতে, যা আজও উপস্থিত। পিৎজার সমগোত্রীয় খাবারের প্রচলন প্রায় গোটা বিশ্বেই দেখা যায়। চিনে একে যেমন বিঙ বলা হয় তেমনই ভারত-বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলিতে এটি পরোটা, রুটি, নান ইত্যাদি নামে পরিচিত।

খাবারটি নেপোলিটান রন্ধনপ্রণালীর একটি অংশ হওয়া সত্ত্বেও সারা বিশ্বেই এটি তুমুল জনপ্রিয়। যে ধরনের দোকানগুলোতে পিৎজা বিক্রি হয়, তা মূলত পিৎজেইরা বা পিজারিয়া নামে পরিচিত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের দোকান পিৎজা পার্লার, পিৎজা প্লেস, এবং পিৎজা শপ নামে পরিচিত। ইউরোপে এটি দুপুর বা রাতের মূল খাদ্য হলেও বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বহু দেশে এটি একটি ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার হিসাবে গণ্য।