যেভাবে নবীজি উপহার প্রদান করতেন

বিদায়ের পথে মাহে রমজান। আর কয়েক দিন পরই মুসলমাদের দ্বারে ঈদুল ফিতরের আগমন। তাই বহু মানুষ তাদের আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদের ঈদ উপহার পৌছে ‍দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে মানুষ তাদের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন। একে অপরে উপাহার দেওয়ার রীতি ইসলামের শুরু লগ্ন থেকেই চলে আসছে ।

প্রিয় নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতকে সাধ্যমতো উপহার আদান-প্রদানের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, বিশ্বনবী (সা.) বলেন, তোমরা পরস্পর উপহারাদি বিনিময় করো, তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক মহব্বত সৃষ্টি হবে। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৫৯৭)
কেউ কোনো হাদিয়া দিলেও তা গ্রহণ করা উচিত, যদি সেখানে কোনো ফিতনার আশঙ্কা না থাকে। কারণ নবীজি (সা.) উম্মতকে এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন।

আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত : নবী (সা.) বলেন, তোমরা দাওয়াত দানকারীর ডাকে সাড়া দিয়ো, উপহারাদি ফেরত দিয়ো না এবং মুসলমানদের প্রহার কোরো না। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ১৫৬)
কখনো কারো উপহারকে ছোট করে দেখা বা অনীহা প্রকাশ করা উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক পরিবারে উপহারের মান নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়, যা একেবারেই কাম্য নয়। উপহার তো উপহারই।

মানুষ ভালোবেসে তার সাধ্য অনুযায়ী যা দিয়েছে, তা আনন্দচিত্তে গ্রহণ করা উচিত। আমাদের নবীজি (সা.)-ও অতি সামান্য উপহারও গুরুত্বসহ গ্রহণ করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, যদি আমাকে হালাল পশুর পায়া বা হাতা খেতে ডাকা হয়, তবু তা আমি গ্রহণ করব; আর যদি আমাকে পায়া বা হাতা হাদিয়া দেওয়া হয়, আমি তা গ্রহণ করব।
(বুখারি, হাদিস : ২৫৬৮)

উপহার আদান-প্রদানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো কেউ উপহার দিলে সামর্থ্য অনুযায়ী তাকেও কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করা। আমাদের নবীজিও তা করতেন।
এই ব্যপারে হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন। (বুখারি : ২৫৮৫)

আল্লাহ তায়ালা আমদেরকে রাসূল সা. এই সুন্নত পালনের মাধ্যমে সকলের মাঝে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার তৌফিক দান করুন আমিন।