রমজানে ক্লান্তিবোধ দূর করার উপায়

এস. এম তৌফিক।।

আমাদের অধিকাংশেরই দেহে কোনো না কোনো সমস্যা বা রোগ রয়েছে। অনেকক্ষেত্রে অনেকেই আবার বলে থাকেন যে, কেবল রমজান মাসেই কিছু কিছু সমস্যা রোগের সম্মুখীন হন কিংবা সমস্যাগুলো অধিক প্রবলভাবে আক্রমণ করে। ফলে রোজা পালনে ব্যাঘাত কিংবা বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আবার অনেকের মনেই বিভিন্ন সমস্যায় কি ধরণের ঔষুধ গ্রহণ করবেন সেটা নিয়েও আপনাদের মনে সৃষ্টি হয় নানা সংশয়, পরে যান নানা ভোগান্তিতে। আমরা আজকে ক্লান্তিবোধ সমাধানে করণীয় কিছু উপায় নিয়ে জানাবো;

পবিত্র রমজান মাসে সবারই ক্লান্তিবোধ কাজ করে। বিশেষ করে, আমাদের দেশে বেশীরভাগ সময়ে গরমের সময় রোজা রাখতে হয় এবং সারাদিন পানাহার বিশেষ করে তরল খাবার পান থেকে বিরত থাকতে হয়। ফলে মানসিকভাবে না হলেও কমবেশী সবারই শারীরিকভাবে ক্লান্তিবোধ অনুভব হয়। নির্দিষ্ট করতে বলতে গেলে ইফতারের পরপরই শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে পরে এবং তারাবির নামাজের সময়।

সেক্ষেত্রে আসুন জেনে নেয়া যাক ক্লান্তিবোধ দূরীকরণে বা ক্লান্তিবোধের মাত্রা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে;

এক. ইফতার ও সেহরীতে খাবারের তালিকায় তৈলাক্ত খাবারের বদলে যথাসম্ভব ফল জাতীয় খাবার বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার ও শাক-সবজি রাখতে হবে।

দুই. অনেকেই আমরা সেহরীতে খাবার না খেয়েই রোজা রাখি অথবা ঠিকমতো পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করি না। এমনিতেই সারাদিন খাদ্যগ্রহন থেকে বিরত থাকা পাশাপাশি সেহরীতে খাবার ঠিকমতো না খাওয়ায় দেহে খাদ্যের অভাব হয় এবং দেহে ক্লান্তিবোধ হয়।

তিন. আমাদের দেশের প্রায় সবাই ইফতারে ততক্ষণ পর্যন্ত খেতে থাকি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের পেট না ভরে কিংবা সুস্বাদু খাবার পেলে পেট ভরে গেলেও খেতেই থাকি। এভাবে অধিক খাদ্যগ্রহণের ফলে আমাদের পেটের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে মাথার রক্ত চলাচলের গতি হ্রাস পায় বা ধীর হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ক্লান্তিবোধ হয়।

এক্ষেত্রে সম্পুর্ণ পেট ভরে খাওয়ার বদলে ইফতারের সময় হালকা খাওয়া দাওয়া করে মাগরিব নামাজের পর আবার খাওয়া যেতে পারে। আবার, সেহরীতে বেশী খাবারের আশায় আমরা রাতের খাবার থেকে বিরত থাকি কিংবা সেহরীতে অনেকেই একত্রে প্রচুর খাবার গ্রহণ করে। তা না করে রাতে খাওয়া দাওয়া করে সেহরীতে খাবার গ্রহণের চাপ কমাতে হবে।

অর্থাৎ, একসাথে অধিক খাবার গ্রহণ না করে বিরতি দিয়ে একাধিকবারেও অধিক খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে এবং তা স্বাস্থ্যের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।

চার. বিভিন্ন ফলজাত খাবার খাওয়ার সময় ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের দিকে বেশী মনযোগ দিতে হবে।

পাঁচ. যেহেতু, রমজানে আমরা পানাহার থেকে বিরত থাকি তাই দেহে স্বাভাবিকভাবেই পানির অভাব থাকে। এক্ষেত্রে সেহেরী ও ইফতারে এবং সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করতে হবে।

ছয়. অনেকের ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায় রমজানে রাতে কম ঘুমায় বা ফজরের নামাজের পরে ন ঘুমিয়ে বিভিন্নভাবে সময় পার করে দেন। ঘুমের ক্ষেত্রে এমন করা যাবে না। অবশ্যই প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। অপর্যাপ্ত ঘুম দেহের ক্লান্তিকর অবস্থার অন্যতম কারণ।

সাত. পরিশ্রমী ব্যাক্তি বা যারাই বিভিন্ন ধরণের কাজ করেন তাদের অবশ্যই একটানা কাজ না করে বরং কাজের মাঝে অল্প সময়ের বিরতি দিয়ে কাজ করতে হবে। এতে দেহ স্বাভাবিকের চেয়ে দেরীতে ক্লান্ত হবে।

আট. সেহরীতে সময় দুধপান ও ডিম গ্রহণ দেহে পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করা যেতে পারে। আবার,স্যালাইন বা গ্লুকোজ পান করেও দেহের কিছুটা শক্তির চাহিদা পূরণ করতে পারেন।

নয়. রমজানে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকায় দেহের কোষগুলো শুষ্ক হয়ে যায়।এক্ষেত্রে ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রতিবারই ওযু করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। এছাড়াও দৈনিক গোসল করা থেকে বিরত থাকা যাবে না। পানির সংস্পর্শে কোষগুলো সতেজতা ফিরে পায় এবং ক্লান্তিবোধ দূর হয়।