লিচুর অবাক করা পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

ডেস্ক: চলছে মধুমাস। চিকিৎসকদের মতে, এই সময় যে কোনো ফল খাদ্যতালিকায় রাখা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। এই সময়ের ফলের মধ্যে অন্যতম লিচু। এটি একটি গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল। স্বাদ খুবই মিষ্টি। ছোট থেকে বড়, সকল বয়সের মানুষরাই এই ফল খেতে ভীষণ পছন্দ করেন।

জেনে নিন লিচুর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে

লিচুতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম থাকে। এদিকে এই ফলে কিন্তু ফ্যাটও নেই। তবে রয়েছে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ। যেমন- ম্যাঙ্গানিজ আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, কপার ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

লিচুর উপকারিতা

পুষ্টিবিদদের মতে, লিচুতে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকায় এটি খেলে গরমে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়। গরমে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই পানি খাওয়ার পাশাপাশি লিচুর মতো জলীয় উপাদান সমৃদ্ধ ফল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

লিচুতে এপিকেচিন ও রুটিন নামক দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে, যা এ গরমে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। লিচুতে লিচিট্যানিন নামক ভাইরাস বিরোধী উপাদান আছে, যা ভাইরাস ছড়াতে বাধা দেয়। লিচু ডায়াটেরি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা প্রতিরোধ করে।

লিচুতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এসব মিনারেল হাড়কে ক্যালসিয়াম শুষে নিতে সাহায্য করে। ফলে হাড় শক্ত ও সুস্থ থাকে।

লিচুতে ভিটামিন, নানা খনিজ উপাদান রয়েছে, যেগুলো রক্তের উপাদান তৈরিতে সহযোগিতা করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে। বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না এবং ত্বক উজ্জ্বল করে।

লিচুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

লিচু খাওয়া উপকার হলেও মাত্রাতিরিক্ত লিচু খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত লিচু খেলে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। লিচু ওজন বৃদ্ধি করে। লিচুতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, জরুরি ফ্যাটি অ্যাসিড নেই। ফলে বেশি পরিমাণে লিচু খেলে তা শরীরের স্বাভাবিক ব্যালেন্স নষ্ট করে। খালি পেটে লিচু খেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে। রক্তের গ্লুকোজ কমে যায়।

তাই খেতে সুস্বাদু হলেও ইচ্ছেমতো লিচু খাওয়ার সুযোগ নেই। দিনে ১০-১২টি লিচু খাওয়া যেতে পারে। বয়স, শরীর, অসুস্থতা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় পরিমিতভাবে লিচু বা যেকোনো ফল খেতে হবে।