সময়ের নিখুঁত খণ্ডচিত্র উঠে এসেছে গল্পের বই ‘পীর কেবলা’য়

নকীবুল হক: মানুষ মাত্রই গল্পপ্রিয়। গল্পের সূক্ষ্ম স্কেচে তারা চিত্রিত করে নিজেদের অবয়ব। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই তারা গেঁথে চলেছে নিজেদের গল্প। সেইসব গল্পে তারা হারিয়ে যায় অতীতের স্বর্ণোজ্জ্বল দিনে। কখনো বা বেদনার পৃষ্টায় ভেসে ওঠে নিজেদের নীল অবয়ব। হয়ে উঠে বিহ্বল, স্মৃতিকাতর। তবে গল্পগুলোতে যদি ছায়া পড়ে একটি শাশ্বত সৌন্দর্যের প্রতিকী অবয়বের, তাহলে মানুষ নিজের অজান্তেই সৌন্দর্যের ছায়াটিকে ধারণ করে নেয় নিজের মাঝে। আর গল্পগুলো যদি হয় ধর্ম, সমাজ, দেশ ও জাতিকে নিয়ে। তাহলে গল্পগুলো আর নিছক গল্প থাকে না। হয়ে উঠে আগামীর পৃথিবী নির্মাণের সূক্ষ্ম অথচ ধারালো প্রেরণা। তরুণ গল্পকার আমিন আশরাফের এমনই অনন্য ১০টি গল্পের সঙ্কলন ‘পীর কেবলা।’

‘পীর কেবলা’ বইটি প্রকাশ করেছে জলরঙ প্রকাশনা। চোখ-জুড়ানো প্রচ্ছদ ও শৈল্পিক নামলিপি করেছেন আব্দুল্লাহ আশরাফ ও মাহমুদা মুর্শিদা লুবনা। উন্নত বাঁধাইয়ের পাঁচ ফর্মার বইটির কভার মূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা।No description available.

আমিন আশরাফ ‘পীর কেবলা’র গল্পগুলো শুধুই বিনোদনের জন্য রচনা করেননি। তাঁর ভাষায়-এটি কেবল একটা গল্পের বই-ই নয়, বরং সমাজের স্বচ্ছ আয়না। পীর কেবলার প্রতিটি গল্পই আমাদের পরিচিত পৃথিবীর একেকটি খণ্ডচিত্র। প্রতিটি গল্পেই লেখক অত্যন্ত সহজ-সরলভাবে তুলে ধরেছেন সমাজের একেকটি দিক। যে গল্পগুলো পাঠককে নতুন করে ভাবতে শেখাবে, প্রেরণা জোগাবে নতুন পৃথিবী নির্মাণের।

বইটির নামগল্প ‘পীর কেবলা’য় লেখক মুখোশ উন্মোচন করেছেন একজন ভণ্ড পীরের। যার বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ইত্যাদি নাশকতামূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮টি মামলা রয়েছে। একই ধরনের আরেকটি গল্প পাওয়া যায় পীর কেবলায়-জিন বাহাদুর। সেখানে লেখক ভণ্ড পীরের মুখোশ উন্মোচন না করলেও দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে ভণ্ড পীরেরা পীর-ফকিরির নামে সাধারণ-নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে লক্ষ-কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বইটিতে একই ধাঁচের আরও দুটি গল্প পাওয়া যায়। আমাদের গ্যাছে যে দিন এবং ফুরায়, এ জীবনের লেনদেন। গল্পদুটিতে বাঙময় হয়ে আমাদের জীবনের চিরন্তন বাস্তবতা।

পীর কেবলার প্রতিটি গল্পে লেখক গল্পের ভেতর দিয়ে ইতিহাস রচনা করতে চেয়েছেন। এবং এ কাজে তিনি সফলও হয়েছেন বলে আমি মনে করি। অর্থাৎ পীর কেবলাকে বলা যায় সময়ের কিছু নিখুঁত খণ্ডচিত্র। কালো হরফে আঁকা সময়ের এই চিত্রায়নে উঠে এসেছে বিএসএফের অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্রও। ‘স্বপ্নগুলো তখন কাঁটাতারে ঝুলছে’র মতো গল্পে তিনি রচনা করেছেন এক অমোঘ ইতিহাস। বদমাশ, দ্রোহের হাওয়া, কিংবা স্টল নাম্বার বিরানব্বই প্রতিটি গল্পই সময়ের একেকটি নিখুঁত খণ্ডচিত্র।

পীর কেবলার পুরোটা জুড়ে, প্রতি লাইনে লাইনে লেখকের যে পরিশ্রম এবং সার্থকতাটা চোখে পড়ে সেটি হলো, সহজ কথা সহজে বলার চেষ্টা। পীর কেবলার প্রতিটি গল্পে, প্রতিটি লাইনে লেখক সহজ কথাটাকে সহজে বলার চেষ্টা করেছেন। আর এজন্যই পুরো ‘পীর কেবলা’ জুড়ে পাওয়া যায় না কোনো অপরিচিত শব্দ। প্রতিটি চিত্র অত্যন্ত সহজ-সাবলীলভাবে ভেসে উঠে পাঠকের করোটিতে। পাঠক, পড়ুন আর উপলব্ধি করুন, সাবলীল গদ্যে আমিন আশরাফ কীভাবে এঁকেছেন সময়ের নিখুঁত খণ্ডচিত্র।

বইটি পাবেন, মাকতাবাতুন নুর, ইসলামী টাওয়ার বাংলাবাজার, ঢাকা, ০১৯৭৩-৮১১৩৮৮; অনলাইন পরিবেশক, রকমারী ডটকম, অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১ এ পাবেন, ইতি প্রকাশনের ১২৮-১২৯ নম্বর স্টলে।

এক নজরে বইয়ের প্রোফাইল

বইয়ের নাম: পীর কেবলা
ধরন: গল্প
লেখক: আমিন আশরাফ
প্রকাশক: জলরঙ
গায়ের মূল্য: ১৫০
বই মেলা পরিবেশক: ইতি প্রকাশন, স্টল নং: ১২৮-১২৯নকীবুল হক: মানুষ মাত্রই গল্পপ্রিয়। গল্পের সূক্ষ্ম স্কেচে তারা চিত্রিত করে নিজেদের অবয়ব। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই তারা গেঁথে চলেছে নিজেদের গল্প। সেইসব গল্পে তারা হারিয়ে যায় অতীতের স্বর্ণোজ্জ্বল দিনে। কখনো বা বেদনার পৃষ্টায় ভেসে ওঠে নিজেদের নীল অবয়ব। হয়ে উঠে বিহ্বল, স্মৃতিকাতর। তবে গল্পগুলোতে যদি ছায়া পড়ে একটি শাশ্বত সৌন্দর্যের প্রতিকী অবয়বের, তাহলে মানুষ নিজের অজান্তেই সৌন্দর্যের ছায়াটিকে ধারণ করে নেয় নিজের মাঝে। আর গল্পগুলো যদি হয় ধর্ম, সমাজ, দেশ ও জাতিকে নিয়ে। তাহলে গল্পগুলো আর নিছক গল্প থাকে না। হয়ে উঠে আগামীর পৃথিবী নির্মাণের সূক্ষ্ম অথচ ধারালো প্রেরণা। তরুণ গল্পকার আমিন আশরাফের এমনই অনন্য ১০টি গল্পের সঙ্কলন ‘পীর কেবলা।’

‘পীর কেবলা’ বইটি প্রকাশ করেছে জলরঙ প্রকাশনা। চোখ-জুড়ানো প্রচ্ছদ ও শৈল্পিক নামলিপি করেছেন আব্দুল্লাহ আশরাফ ও মাহমুদা মুর্শিদা লুবনা। উন্নত বাঁধাইয়ের পাঁচ ফর্মার বইটির কভার মূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা।No description available.

আমিন আশরাফ ‘পীর কেবলা’র গল্পগুলো শুধুই বিনোদনের জন্য রচনা করেননি। তাঁর ভাষায়-এটি কেবল একটা গল্পের বই-ই নয়, বরং সমাজের স্বচ্ছ আয়না। পীর কেবলার প্রতিটি গল্পই আমাদের পরিচিত পৃথিবীর একেকটি খণ্ডচিত্র। প্রতিটি গল্পেই লেখক অত্যন্ত সহজ-সরলভাবে তুলে ধরেছেন সমাজের একেকটি দিক। যে গল্পগুলো পাঠককে নতুন করে ভাবতে শেখাবে, প্রেরণা জোগাবে নতুন পৃথিবী নির্মাণের।

বইটির নামগল্প ‘পীর কেবলা’য় লেখক মুখোশ উন্মোচন করেছেন একজন ভণ্ড পীরের। যার বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ইত্যাদি নাশকতামূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮টি মামলা রয়েছে। একই ধরনের আরেকটি গল্প পাওয়া যায় পীর কেবলায়-জিন বাহাদুর। সেখানে লেখক ভণ্ড পীরের মুখোশ উন্মোচন না করলেও দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে ভণ্ড পীরেরা পীর-ফকিরির নামে সাধারণ-নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে লক্ষ-কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বইটিতে একই ধাঁচের আরও দুটি গল্প পাওয়া যায়। আমাদের গ্যাছে যে দিন এবং ফুরায়, এ জীবনের লেনদেন। গল্পদুটিতে বাঙময় হয়ে আমাদের জীবনের চিরন্তন বাস্তবতা।

পীর কেবলার প্রতিটি গল্পে লেখক গল্পের ভেতর দিয়ে ইতিহাস রচনা করতে চেয়েছেন। এবং এ কাজে তিনি সফলও হয়েছেন বলে আমি মনে করি। অর্থাৎ পীর কেবলাকে বলা যায় সময়ের কিছু নিখুঁত খণ্ডচিত্র। কালো হরফে আঁকা সময়ের এই চিত্রায়নে উঠে এসেছে বিএসএফের অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্রও। ‘স্বপ্নগুলো তখন কাঁটাতারে ঝুলছে’র মতো গল্পে তিনি রচনা করেছেন এক অমোঘ ইতিহাস। বদমাশ, দ্রোহের হাওয়া, কিংবা স্টল নাম্বার বিরানব্বই প্রতিটি গল্পই সময়ের একেকটি নিখুঁত খণ্ডচিত্র।

পীর কেবলার পুরোটা জুড়ে, প্রতি লাইনে লাইনে লেখকের যে পরিশ্রম এবং সার্থকতাটা চোখে পড়ে সেটি হলো, সহজ কথা সহজে বলার চেষ্টা। পীর কেবলার প্রতিটি গল্পে, প্রতিটি লাইনে লেখক সহজ কথাটাকে সহজে বলার চেষ্টা করেছেন। আর এজন্যই পুরো ‘পীর কেবলা’ জুড়ে পাওয়া যায় না কোনো অপরিচিত শব্দ। প্রতিটি চিত্র অত্যন্ত সহজ-সাবলীলভাবে ভেসে উঠে পাঠকের করোটিতে। পাঠক, পড়ুন আর উপলব্ধি করুন, সাবলীল গদ্যে আমিন আশরাফ কীভাবে এঁকেছেন সময়ের নিখুঁত খণ্ডচিত্র।

বইটি পাবেন, মাকতাবাতুন নুর, ইসলামী টাওয়ার বাংলাবাজার, ঢাকা, ০১৯৭৩-৮১১৩৮৮; অনলাইন পরিবেশক, রকমারী ডটকম, অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১ এ পাবেন, ইতি প্রকাশনের ১২৮-১২৯ নম্বর স্টলে।

এক নজরে বইয়ের প্রোফাইল

বইয়ের নাম: পীর কেবলা
ধরন: গল্প
লেখক: আমিন আশরাফ
প্রকাশক: জলরঙ
গায়ের মূল্য: ১৫০
বই মেলা পরিবেশক: ইতি প্রকাশন, স্টল নং: ১২৮-১২৯