সালতামামি: এবছর যেসব সংসদ সদস্যকে হারালাম

২০২১ সালে সাত সংসদ সদস্যকে (এমপি) হারিয়েছে জাতীয় সংসদ। তিনজন মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। মহামারির কারণে সংসদ ভবনে তাদের কারও জানাজা হয়নি।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস: চলতি বছরের মার্চ মাসে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস মারা যায়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। সিলেট-৩ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালের ১১ মার্চ তার মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

আসলামুল হক: ২০২১ সালের ৪ এপ্রিলে মৃত্যু হয় আসলামুল হকের। স্ট্রোক করে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান তিনবারের এই সংসদ সদস্য। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তিনি ঢাকা-১৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।

আবদুল মতিন খসরু: ১৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী ও কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যু হয়। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া খসরু ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২১ সালের ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি হয়েছিলেন সভাপতি। ১২ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নেন। কিন্তু দায়িত্বের মেয়াদ শেষ না হতেই ৭১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন তিনি।

অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ: সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ ছিলেন কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য। ৭৩ বছর বয়সী আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ রাজনীতিক চান্দিনা থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি।

পিত্তথলির পাথরের অপারেশনের জন্য ২০২১ সালের ২ জুলাই আলী আশরাফকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ফুসফুসে ক্ষতসহ দেখা দেয় নানা সমস্যা। ৯ জুলাই নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ৩০ জুলাই মৃত্যু হয় তার।

হাসিবুর রহমান স্বপন: সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন ২ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। তুরস্কের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

হাসিবুর রহমান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ৮০র’ দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিরাজগঞ্জ-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন।

পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ ঐকমত্যের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সে সময় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করলে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী: জাতীয় পার্টির (জাপা) সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী মারা যান ১৩ সেপ্টেম্বর। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চট্টগ্রামের এই নারী ছিলেন অধ্যাপকও।

একাব্বর হোসেন: সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবশেষ মারা যান মো. একাব্বর হোসেন। ১৬ নভেম্বর মৃত্যু হয় তার। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৩৬ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

একাব্বর হোসেন টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের টানা চারবারের সংসদ সদস্য। এছাড়া ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।