সুখী হওয়ার বিজ্ঞানভিত্তিক ১০ উপায়

বিপুল জামান

গবেষকরা এমন দশটি উপায় খুঁজে বের করেছেন, যা অনুশীলন করে যে কেউ সুখী হতে পারেন।

ভ্রমণ করুন: গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্রমণের ফলে মানুষের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করে। ভ্রমণের ফলে ব্যক্তি একঘেয়েমি, বিষন্নতা, মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পায়। ভ্রমণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জীবনের দিক পরিবর্তন করে। গবেষকরা দেখেছেন শুধু ভ্রমণ করাই নয়, ভ্রমণের পরিকল্পনার ফলেও একই প্রতিক্রিয়া ঘটে। তাই সময় পেলেই ভ্রমণ করুন, নিদেনপক্ষে ভবিষ্যতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন।

চার দেয়ালের বাইরে যান: আধুনিক জীবন বন্দি হয়ে পড়েছে অফিস, বাসা, শপিং মলের ভেতরে। গবেষকরা আধুনিক মানুষের হতাশা, বিষন্নতা এবং অসুখী জীবনের জন্য দায়ী করছেন এই ঘরবন্দি জীবনকে। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাদের পরামর্শ হলো চার দেয়ালের বাইরে বের হওয়া। ঘরের বাইরে বের হলে মুক্ত বায়ুতে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ ঘটে, দৃষ্টি মেলে দেওয়া যায় বহুদূর পর্যন্ত। এর ফলে মানসিক চাপ কমে। তাই সুখী হতে চাইলে চার দেয়ালের বাইরে কিছু সময় কাটান।

কর্মস্থলের কাছাকাছি বাস করুন: গবেষণায় দেখা গেছে যাদের বাসস্থান কর্মস্থলে থেকে দূরে অবস্থিত, তাদের অসুখী হওয়ার প্রবণতা কর্মস্থল থেকে বাসার দূরত্বের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, যার কর্মস্থল থেকে বাসা যত দূরে সে তত বেশি অসুখী। সাধারণত পথশ্রমেই উদ্যম নষ্ট হয়ে যায় বলে ব্যক্তি কর্মজীবনে এবং ব্যক্তিগত জীবনে সফল হতে পারে না। ফলে সে অসুখী হয়ে পড়ে। তাই সুখী হওয়ার জন্য গবেষকরা কর্মস্থলের কাছে দূরত্বে বসবাসের পরামর্শ দিয়েছেন।

পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান: পরিবার ও বন্ধুরাই স্বার্থবিহীনভাবে আমাদের সমর্থন করেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে পাশে থাকেন। তারাই আমাদের সবচেয়ে বড় সহমর্মী। তাদের সাহচর্যে আমরা নিরাপদবোধ করি, উৎফুল্ল হই। এ কারণে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে থাকলে আমাদের মন প্রফুল্ল থাকে, চাপমুক্ত থাকে। এর ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে, হৃৎপিণ্ড ভালো কাজ করে, মস্তিষ্ক ধীরস্থির থাকে, যা সুস্থতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। তাই সুখী ও দীর্ঘজীবন লাভ করতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি বেশি সময় কাটান।

ধ্যান করুন: মানুষের সব দুর্গতি, দুরবস্থার কারণ তার নেতিচিন্তা। ধ্যানের মাধ্যমে অন্তর্নিহিত নেতিবাচকতার স্থলে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি স্থাপন করা যায়। নিয়মিত ধ্যানচর্চার ফলে ব্যক্তির ধৈর্য ও সহ্যশক্তি বৃদ্ধি পায়, নেতিবাচক আবেগ হ্রাস পায়, সৃজনশীলতা এবং কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া ধ্যানের মাধ্যমে বর্তমানে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা সহজ হয়, নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সফল হওয়া যায়, আত্মসচেতনতা লাভের মাধ্যমে চাপমুক্ত নতুন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি-সম্পন্ন জীবনযাপন করা সম্ভব হয়। তাই সুখী হতে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হলেও ধ্যান করুন।