১৯ বছর বয়সের মঙ্গল অভিযাত্রী অ্যালিসা কারসন

২০৩০ সালে মঙ্গল গ্রহে পা রাখতে যাওয়া সাতজন ব্যক্তির মধ্যে ১৯ বছর বয়সী অ্যালিসা কারসন একজন। এ বয়সেই বেশ কয়েকবার নাসা ক্যাম্প থেকে ঘুরে এসেছেন তিনি, গ্র্যাজুয়েশন করেছেন অ্যাডভান্স স্পেস অ্যাকাডেমি থেকে। মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই অ্যালিসা স্বপ্ন দেখতেন নভোচারী হওয়ার। অ্যালিসা কারসনকে নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

অ্যালিসা কারসন

১৯ বছর বয়সী অ্যালিসা কারসনের বসবাস আমেরিকার ব্যাটন রগ লুইসিয়ানায়। ফ্লোরিডা টেকে অ্যাসট্রোবায়োলজি নিয়ে বর্তমানে পড়ালেখা করছেন অ্যালিসা। তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন অ্যাসট্রোবায়োলিজিস্ট হওয়ার। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেন নভোচারী হওয়ার। তাই বর্তমানে অ্যালিসা যুক্ত আছেন এমন সব কাজের সঙ্গে, যা তাকে ভবিষ্যতে একজন সত্যিকার নভোচারী হিসেবে গড়ে তোলে।

এ বয়সেই অ্যালিসার ঝুলিতে জমা আছে বেশ কয়েকটি সফলতার গল্প। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-থ্রি স্পেস শাটল লঞ্চিং দেখা, ৭ বার স্পেস ক্যাম্পে, স্পেস অ্যাকাডেমিতে ৩ বার, রোবোটিকস অ্যাকাডেমিতে ১ বার যাওয়া, স্পেস অ্যাকাডেমি এবং বেশ কয়েকটি স্যালি রাইড ক্যাম্প থেকে সবচেয়ে কমবয়সী গ্র্যাজুয়েট হওয়া, ২০১২-১৩ সালে আবারও তুরস্কের ও কানাডার স্পেস ক্যাম্প থেকে লেখাপড়া করা এবং বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নাসার স্পেস ক্যাম্পে যুক্ত হওয়া। অ্যালিসাই প্রথম যিনি নাসার পাসপোর্ট প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন, ৯টি রাজ্যে ১৪টি নাসা সেন্টার দেখেছেন। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে, নাসা তাকে আমন্ত্রণ জানায় নাসা টিভিতে মঙ্গলযাত্রা নিয়ে লাইভ আলোচনা করার জন্য। ২০৩০ সালে যে সাতজন ব্যক্তি মঙ্গলে পা রাখতে যাচ্ছেন তাদের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন অ্যালিসা। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে, Advanced Possum Academy থেকে সবচেয়ে তরুণ হিসেবে মহাকাশে যাওয়ার এবং নভোচারী হওয়ার ট্রেনিংপ্রাপ্ত হন। শুনতে কিছুটা কাঠখোট্টা মনে হলেও নিজের জীবনকে উপভোগ করার জন্য অ্যালিসা সবকিছু করেন। কোনো বাধাকেই তিনি নিজের জীবনে স্থায়ী হতে দেন না। অ্যালিসা বিশ্বাস করেন তার এসব চেষ্টাই তাকে বিশ্বে ইতিবাচক কোনো না কোনো চিহ্ন রেখে যেতে সাহায্য করবে।

অনুপ্রেরণা

ছোট থেকেই মহাকাশের প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল অ্যালিসার। রাতের আকাশের তারা কীভাবে এত উজ্জ্বল হয়, মহাকাশ দেখতে কেমন এসব বিষয় নিয়ে অল্প বয়স থেকেই বাবাকে প্রশ্ন করতেন। মঙ্গল গ্রহে মানুষ থাকে কি না, চাঁদ দেখতে কেমন এসব নিয়ে আগ্রহের শেষ ছিল না তার। বাবাও চেষ্টা করতেন যতটুকু সম্ভব উত্তর দেওয়ার। বাবার কাছে জেনেছিলেন, চাঁদে মানুষের পা পড়েছে কিন্তু মঙ্গলে নয়। সে সময় মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে বলেছিলেন, ‘বাবা, আমি নভোচারী হতে চাই। মঙ্গলে যারা থাকে তাদের একজন হতে চাই।’ অল্প বয়সে সেসব কথা প্রায় না বুঝেই বলেছিলেন অ্যালিসা। কিন্তু বুঝ হওয়ার পর থেকে ধ্যানে-জ্ঞানে তিনি শুধুই একজন নভোচারী হতে চাইতেন। বাবাকে ইচ্ছার কথা জানালে তিনি কখনো নিষেধ করেননি। কিন্তু কীভাবে কী করতে হবে তা নিয়েও পরিষ্কার ধারণা ছিল না তার। অ্যালিসা জানতেন না অল্প বয়সে চাইলেই মঙ্গলে যাওয়া যায় না। এজন্য নিতে হয় দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি। তাদের পরিবারে বিজ্ঞান বা মহাকাশ নিয়ে কেউ লেখাপড়া করেছে বা ক্যারিয়ার গড়েছে এমন ঘটনা ছিল না। শুধু মনের ভেতর আশা ছিল। আর সেই আশা থেকেই ঘরে মঙ্গলযাত্রার একটি পোস্টার লাগিয়ে রেখেছিলেন। প্রতিদিন পোস্টারের দিকে তাকিয়ে থাকতেন আর ভাবতেন, কখনো না কখনো তো মঙ্গলে যাওয়ার সুযোগ আসবেই।

অ্যালিসা বলেন, ‘যেহেতু নভোচারী হতে চাইতাম, তাই মহাকাশ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করলাম নিজে থেকেই। আমি ঠিক জানতাম না আমার আসলে কী করা উচিত। অল্প বয়স থেকেই তাই স্পেস ক্যাম্পগুলোতে যাওয়া শুরু করলাম শুধু মহাকাশ সম্পর্কে জানার জন্য। ঠিক সেখানে গিয়েই মহাকাশের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। সঙ্গে আরও বুঝলাম নভোচারী হওয়া সহজ কথা নয়। আর প্রতিযোগিতা তো আছেই। তখন আগে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম আমি কেমন নভোচারী হতে চাই, কী করতে চাই, কী করলে সবার চেয়ে আলাদা অথচ সবচেয়ে আকর্ষণীয় হবে। এরপর থেকে বিভিন্ন ক্যাম্পে যাওয়া বাড়িয়ে দিলাম। বাস্তবিক বিভিন্ন বিষয় যেমন, মাইক্রোগ্র্যাভিটি ফ্লাইট (ওজনশূন্য হওয়া), বিমান চালানো শেখাসহ অনেক কিছু শিখলাম। তবে এগুলো ছিল শুধু আগ্রহ থেকে শেখা। আমার মূল চিন্তা তখনো নভোচারী হওয়া।’

প্রস্তুতি

নভোচারী হওয়ার প্রস্তুতি সহজ নয়। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতিই একজন ব্যক্তিকে যোগ্য করে তোলে। অ্যালিসা বলেন, ‘নভোচারী হওয়ার জন্য আবেদন করার আগে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত অর্থাৎ ঝঞঊগ-এ একটি মাস্টার্স ডিগ্রি অবশ্যই থাকতে হবে। সঙ্গে যে বিষয়েই লেখাপড়া হোক না কেন, তাতে সশরীরে কাজের অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে। মূলত নভোচারীর প্রস্তুতিতেও যেকোনো বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ সবচেয়ে জরুরি। নভোচারী হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, এখানে বাঁধাধরা কিছু নেই। যেকোনো বিষয়েই আপনি ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারেন। পাইলট, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, মিলিটারি পেশা বাছাই এমনকি সিভিলিয়ান হয়েও থাকা যায়। ভিন্নধারার যেকোনো বিষয় নিয়ে আপনি লেখাপড়া করতে পারেন, সেই সঙ্গে নভোচারীও হতে পারেন। আগ্রহের যেকোনো বিষয় নিয়ে কাজ করার স্বাচ্ছন্দ্য এখানে আছে। যেখানে এতগুলো রাস্তা খোলা, সেখানে আপনি কোনটি বেছে নেবেন সেটা আপনাকেই ভাবতে হবে। ধরুন, আপনার রোবটের প্রতি আগ্রহ আছে। বিভিন্ন রোবট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে রোবট বানানো শুরু করলেন। এটা আপনার কাছে ছোট মনে হলেও আসলে মোটেও তা ছোট নয়। এ বিষয়টি ভবিষ্যতে কোথাও আবেদন করতে চাইলে বেশ কাজে দেবে। ঠিক এভাবে আমিও প্রস্তুতি নিচ্ছি নভোচারী হওয়ার জন্য।’

মঙ্গলে যাওয়া কেন জরুরি

‘মহাকাশ সম্পর্কে জানার আসলে অনেক কিছু আছে। আর মঙ্গলে গেলে সুবিধা অনেক বেশি। প্রথমত, মঙ্গলে যাওয়ার আইডিয়া মানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করতে হচ্ছে। উদ্ভাবনীয় অনেক প্রযুক্তি আবার এই পৃথিবীর নানা কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে। মঙ্গল গ্রহে যেতে হলে কী কী প্রযুক্তির প্রয়োজন তার পুরোটা বিজ্ঞানে লেখা নেই। কাজ করতে করতে এসব বিষয় নিয়ে শিখতে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন বসবাসের জন্য মঙ্গল দ্বিতীয় জগৎ হয়ে উঠতে পারে। যদি সত্যি সত্যি তা-ই হয়, তাহলে দিনে দিনে এখানে জনবসতি তৈরি হবে, পৃথিবী থেকে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য দারুণ একটি জায়গা হবে। আর এই সত্যকে সম্ভব করতে হলে মঙ্গলে সব ধরনের সুবিধা তৈরি করতে হবে। পৃথিবীর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে হবে। মঙ্গলের মতো বড় মিশন যদি সফল হয়, তবে স্পেস ইন্ডাস্ট্রিতে আরও কাজের সুযোগ বাড়বে। তখন শুধু ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনেই নয়, সরাসরি মঙ্গলেও কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। একবার মঙ্গলে যাওয়া মানে সেখানেই শেষ নয়, বরং নতুন আরেকটি দিগন্তের শুরু। সবকিছু মিলিয়ে মঙ্গলে যাওয়া জরুরি। কাউকে না কাউকে তো শুরু করতে হবে, সেই শুরু যখন আমাকে দিয়ে হচ্ছে, সেই আনন্দের ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো ভাষা আসলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়’ বলছিলেন অ্যালিসা।

মঙ্গল মিশনে যাওয়ার সময়

মহাকাশ সম্বন্ধীয় যেকোনো মিশন অল্প সময়ে সম্ভব নয়। এই মিশনেও তাই সময় লাগবে বেশ কিছুদিন। অ্যালিসা বলেন, ‘এই কাজের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যেতে ছয় মাস লাগবে। নভোচারীদের সেখানে সাধারণত এক বছর থাকতে হয়। এটি নির্ধারিত হবে মূলত গ্রহের ঘূর্ণন অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। মঙ্গল কখনো পৃথিবীর একদম কাছে অবস্থান করে, আবার কখনো অনেক দূরে চলে যায়। কারণ গ্রহগুলো নির্দিষ্ট বৃত্তাকার কক্ষ মেনে চলে না, উপবৃত্তাকার কক্ষপথেই এরা ঘূর্ণন করে বেশি। তাই আমাদের মঙ্গলের কাছে আসার অপেক্ষা করতে হবে, পুরো মঙ্গল ঘুরে আবার ফিরে আসার পথ বের করতে হবে। ফিরে আসার এই সময় হয়তো আরও ৬ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত হতে পারে। সহজ ভাষায় মিশনটি বেশ দীর্ঘ। আমরা অবশ্য এখনই জানি ছয় মাসের মিশনকে কীভাবে ছয় সপ্তাহে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু সত্যি বলতে, প্রথম এ ধরনের অভিনব মিশনে আমি ভরসা করতে পারছি না। একটু সময় নিয়ে গ্রহ সম্পর্কে জেনে আসতে, সেখানে নভোচারীদের নিরাপদে থাকাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে যদি একটু সময়ও লাগে আমার অসুবিধা নেই।’

অনুপ্রেরণা

নভোচারী হওয়ার আগ্রহ থেকে অ্যালিসা মাত্র ৯ বছর বয়সে শাটল অ্যাস্ট্রোনট সান্দ্রা ম্যাগনাসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত ছিল সেটি তার জন্য। ‘আমি সান্দ্রাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি কোন বয়সে নভোচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন তার নভোচারী হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল সেই ৯ বছর বয়সেই। তার কাছ থেকেই আমি জেনেছিলাম, নভোচারী হতে চাওয়ার আগ্রহ তৈরি করতে কোনো বয়স লাগে না। আমি যদি প্রচুর পরিশ্রম করি, লেগে থাকি, আর ইচ্ছাশক্তি শেষ না করে দিই, তবে আমার স্বপ্ন অবশ্যই এক দিন সত্যি হবে। এই অনুপ্রেরণাই আমাকে উজ্জীবিত রেখেছিল। মঙ্গলে যাওয়ার জন্য আমি একরকম পাগল হয়ে উঠেছিলাম। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম শেষ পর্যন্ত আমি চেষ্টা করে যাব। এই যাত্রাপথে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। প্রতি পদে পদে তারা আমাকে উৎসাহ আর পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

উদ্দীপ্ত রাখে কোন বিষয়

নানা কাজের ভেতর নিজেকে উদ্দীপ্ত রাখতে ভালোবাসেন অ্যালিসা। বিশেষ করে মহাকাশ সম্পর্কে বিভিন্ন জিনিস জানতে তার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। ‘মহাকাশ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমি লেখাপড়া করতে পারি। একই সঙ্গে নিজের অন্যান্য কাজের ব্যালান্সও রাখতে পারি। তবে হ্যাঁ, মহাকাশ নিয়ে আমি কখনো ক্লান্ত হই না। ক্যাম্পে, ক্লাসে, গবেষণার সময় নতুন কিছু জানতে অথবা মহাকাশের যেকোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। কোনো কিছুতে আমার আগ্রহ আছে সেসব নিয়ে প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন বিষয় জানতে আমার ভালো লাগে। তাই আমাকে উদ্দীপ্ত রাখতে মহাকাশ সম্পর্কীয় যেকোনো তথ্যই যথেষ্ট। আমি এখন এমন একপর্যায়ে আছি, যেখানে আমি অনেক কিছু শিখেছি, জেনেছি। আর এই জ্ঞানার্জন স্পেস ইন্ডাস্ট্রিতে প্রয়োগ করতে আমি প্রস্তুত।’

এখন কী করছেন

মহামারীর কারণে বেশ কিছু কাজ পিছিয়ে গিয়েছে অ্যালিসার। শারীরিক প্রশিক্ষণ আর সরাসরি গিয়ে কোনো বিষয়ে জানার কাজগুলো আপাতত বন্ধ। তাই বর্তমানে তিনি স্কুলেই মনোযোগ দিচ্ছেন। সেমিস্টার শেষ করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইন্টার্নশিপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখানেও একটি চমক আছে। অ্যালিসা বলেন, ‘নাসার সঙ্গে চুক্তিকারী জ্যাকবের সঙ্গে ইন্টার্নশিপ শুরু করতে চাচ্ছি আমি। এ বিষয়টি নিয়ে আমি খুব আনন্দিত। আমার প্রাইভেট পাইলটের লাইসেন্স আছে। লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইংটাও আমি চালিয়ে যেতে চাই। ফ্লাইংয়ে নতুন আরও কী কী বিষয় জানার আছে, সেগুলো জানার চেষ্টা করছি বর্তমানে। যতটুকু সম্ভব গবেষণা করে যাচ্ছি এ নিয়ে।’

পরামর্শ

‘আমার মতে, যেকোনো কিছুর জন্য শুরুতেই বড় করে নয়, ছোট করে শুরু করতে হয়। ছোটবেলায় আমি সবার আগে লাইব্রেরিতে গিয়ে মহাকাশ নিয়ে বিভিন্ন বই পড়তাম। কারণ আমি জানতাম না মহাকাশ কী। সেটাই ছিল আমার শুরু। তাই সব সময় নিজের আশপাশে খোঁজ রাখতে হবে নিজের আগ্রহের বিষয় নিয়ে। এরপর নিজের দেখা স্বপ্নগুলোর জন্য আওয়াজ তুলতে হবে, কী করতে চান সে নিয়ে সাহায্য খুঁজতে হবে। শুরুতে ভয় হতে পারে, কিন্তু এ ভয় থেকেও অনেক সুযোগ আসতে পারে। শুরুতে বলা সেই রোবটের উদাহরণটা আবারও বলি। আপনি যখন রোবট নিয়ে কাজ করছেন, তখন আশপাশের মানুষকে সেটি জানান। সবাই কিন্তু জেনে গেল রোবট নিয়ে কে কাজ করছে। সেখান থেকেই হয়তো নতুন একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে। ঠিক এভাবেই সুযোগ আসে। আপনি জানতেও পারবেন না কোথায় কোন জায়গায় আপনার জন্য কেউ না কেউ সুযোগ তৈরি করে রেখেছে। আপনার বলার কারণে হয়তো কাছের কোনো বন্ধুর মাধ্যমে নতুন পরামর্শ বা চাকরির সুযোগ চলে আসতে পারে। তাই সব সময় লেগে থাকতে হবে। এটি বেশ দীর্ঘ একটি কাজ। কিন্তু আপনি যদি নিজের কাজের প্রতি উৎসাহী থাকেন, এক দিন না এক দিন সফলতা আপনার কাছে ধরা দেবেই।’